Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

নিজের বিয়ে রুখল মেয়ে

সৌমেশ্বর মণ্ডল
মেদিনীপুর ১৩ মে ২০১৭ ০১:২৪
সাহসিনী: এখন পড়াশোনা করতে চায় দেবিকা। নিজস্ব চিত্র

সাহসিনী: এখন পড়াশোনা করতে চায় দেবিকা। নিজস্ব চিত্র

পাঁচ মেয়ে, দুই ছেলেকে নিয়ে একলা মায়ের সংসার। স্বামী মারা গিয়েছেন আগেই। তাই একে একে চার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ফেলেছেন মা। বাকি ছিল বছর চোদ্দোর ছোটটি। দু’বার পাত্র ঠিক করলেও ভেস্তে দিয়েছে সেই মেয়ে। এ বার তাই আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার সকালে পাড়ার এক দাদাকে ধরে চাইল্ড লাইনে ফোন করে সে বিয়ের উদ্যোগও ভেস্তে দিল সেই মেয়েই।

মেদিনীপুর সদর ব্লকের বাগডুরি এলাকার বাসিন্দা দেবিকা সিংহ গুড়গুড়িপাল হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। দিদিদের বিয়ের পর থেকেই মা উঠে পড়ে লেগেছিলেন তার বিয়ের জন্য। কিন্তু রাজি ছিল না দেবিকা। বৃহস্পতিবার আবার পাত্র দেখা শুরু করেন মা। সিঁদুরে মেঘ দেখে দেরি করেনি দেবিকা। ১০৯৮ নম্বরে চাইল্ড লাইনে ফোন করে সোজা বলে বসে, ‘‘মা-কে বিশ্বাস করি না। আত্মীয়দের না জানিয়ে জোর করে মন্দিরে বিয়ে দিয়ে দিতে পারে। আমি এখন বিয়ে করব না। আমি পড়তে চাই।’’

চাইল্ড লাইনের সদস্য মানস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ফোন পেয়েই কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাই। তারপরই পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।’’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরীকে আপাতত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশে একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। পরে মেয়েটির মা-কে ডেকে কাউন্সেলিং করা হবে। তারপর ওই কিশোরীকে বাড়ি পাঠানো হবে।

Advertisement

দেবিকার মা কাজল সিংহ টুকটাক কিছু চাষের কাজ করে সংসার চালান। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘গ্রামের দিকে মেয়ে বড় হলেই বিপদ বাড়ে। ওর বাবা নেই। সব মেয়েদের বিয়ে দিতে পারলেই আমি শান্তি পাব।’’

আরও পড়ুন

Advertisement