E-Paper

সকালে বন্ধ বিধায়ক অফিস খুলল বিকেলে

নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টের ঠাঁই হয়নি প্রার্থী তালিকায়। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভারানী মাইতিকে।

বিশ্বসিন্ধু দে

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:১৩
Narayangarh TMC MLA office Midnapore

বুধবার তখন সাড়ে এগারোটা। বন্ধ কার্যালয়। নিজস্ব চিত্র।

এ যেন মেঘে ঢাকা সূর্য।

মঙ্গলবার ঘোষণা হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। বুধবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। দিনের অধিকাংশ সময়েই মেঘের আড়ালেই ছিল সূর্য।

নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টের ঠাঁই হয়নি প্রার্থী তালিকায়। তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভারানী মাইতিকে। এই পরিবর্তনে কি মেঘ জমেছে তৃণমূলের অন্দরেও! তা না হলে ভোটের রণডঙ্কা বাজার পরের দিনই কেন সকাল থেকে বন্ধ থাকবে ব্লক তৃণমূল তথা বিধায়ক কার্যালয়! তৃণমূলের এক কর্মী জানাচ্ছেন, বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ তিনি গিয়েছিলেন কার্যালয়ে। গিয়ে দেখেন কার্যালয় তালা বন্ধ। ফিরে যান তিনি। এ দিন বিকেলে অবশ্য খোলা ছিল কার্যালয়।

কার্যালয় বন্ধ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির। নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি কারও নাম না করে বলেছেন, "যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁরা এখন মুখ লুকোচ্ছেন। এ নিয়ে কিছু বলার নেই। তবে বিজেপি ও মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।" প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে এই রমাপ্রসাদকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন সূর্যকান্ত। কার্যালয় বন্ধ নিয়ে তিনি জানান, সকালে ১০টা পর্যন্ত কার্যালয় খোলা ছিল, তার পরের পরিস্থিতি তাঁর জানা নেই। বিষয়টি ব্লক সভাপতি ভাল বলতে পারবেন। নারায়ণগড় ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুকুমার জানা বিরোধীদের পাল্টা তোপ দেগে বলেন, "কার্যালয় সকাল এগারোটা পর্যন্ত খোলাই ছিল। দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছেন। বিরোধীরা নিজেদের ঘর সামলাক। তৃণমূলকে নিয়ে ভাবতে হবে না। তৃণমূল সারা বছর মানুষের পাশে থাকে।"

তৃণমূল ব্লক সভাপতি যতই সমালোচনা করুন না কেন, দমতে নারাজ বিজেপি। তাদের বক্তব্য, চিরদিন যে কারও সমান যায় না তা আরও একবার প্রমাণ হল। তৃণমূলের অন্দরের খবর, সূর্যকান্ত দাপুটে বিধায়ক বলেই পরিচিত ছিলেন। ২০২১ সালের আগে ব্লক তৃণমূল কার্যালয় ও বিধায়ক কার্যালয় পৃথক জায়গায় ছিল। তিনি জিতে দুটিকে মিশিয়ে দেন। সারা রাজ্যের মতো এখানেও ছিল শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সূর্যকান্ত বিরোধী শিবিরের নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন মিহির চন্দ। জেতার প্রথম তিনমাস পর্যন্ত দু’পক্ষের বিরোধ চরমে উঠেছিল। পরে দেখা যায়, মিহির ও তাঁর অনুগামীদের বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্বর মিহি হয়ে যায়। একসময় ব্লক সভাপতির পদও খোয়াতে হয় মিহিরকে। বর্তমানে অবশ্য তিনি রয়েছেন জেলার সহ সভাপতি এবং নারায়ণগড় পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি পদে। এখানে দলের প্রার্থী বদল প্রসঙ্গে মিহির বলেন, ‘‘দল গবেষণা করে দেখেছে, এখানে প্রার্থী বদল করার প্রয়োজন। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে কেন, কী কারণে বদল করেছে সেটা আমরা তো বলতে পারব না। দল যাকে প্রার্থী করেছে সেটাই চূড়ান্ত।"

বিধায়কের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে এই পাঁচ বছরে। শাসক দলের অন্দরের খবর, তা মূলত গা জোয়ারির। তবে দাপটে যাবতীয় ক্ষোভ-বিক্ষোভ দমন করেছেন বিধায়ক।প্রকাশ্যে দেখা যেত ‘ব্যতিক্রমী ঐক্যের’ ছবি। গত বিধানসভায় সূর্য জিতেছিলেন ২৪১৬ ভোটে। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী এই নারায়ণগড় কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন দশ হাজারেও বেশি ভোটে। অবশ্য ২০১৯ সালের ম্যাজিক কাজ না করায় রাজ্যে সার্বিক ভাবেই ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে খুব একটা ভাল ফল করতে পারেনি বিজেপি। লোকসভা ভোটের ফল আশায় রেখেছিল বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের। কিন্তু মঙ্গলবারের পর বিষণ্ণ তাঁরাও।

সকালে সূর্য মেঘে ডুবতেই তালা বন্ধ হয়েছিল দলীয় কার্যালয়। সূর্য পাটে যেতেই খোলে সূর্যের দফতর।

তবে এ সবের মাঝে নারায়ণগড় তৃণমূলের অন্দরে একটাই আলোচনা। কার প্রতিভায় বাদ পড়লেন সূর্য। প্রার্থী হলেন প্রতিভারানী। আপাতত তিনি শুধু বলছেন, ‘‘পুরনো কর্মীদের ও বিধায়ককে প্রণাম করে, সম্মান জানিয়ে সহযোগিতার কথা বলেছি। সকলকে নিয়ে মানুষের হয়েই কাজ করতে এসেছি।"

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Narayangarh TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy