×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

ই-বাসের জন্য হবে আরও চার্জিং স্টেশন

নিজস্ব সংবাদদাতা
দিঘা০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ০১:৪২
দিঘা ডিপোয় পরীক্ষার পর রাখা ই-বাস। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

দিঘা ডিপোয় পরীক্ষার পর রাখা ই-বাস। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

মেট্রো শহরগুলির ধাঁচে এবার সৈকত শহর দিঘায় ইলেকট্রিক বাস (ই-বাস) চলবে। আজ, সোমবার থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে কাঁথি পর্যন্ত বাস চলবে বলে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা সূত্রে জাজানো হয়েছে।

শুধু দিঘা নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়া থেকেও ব্যাটারি চালিত ওই বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর। পর্যটন শহর কিংবা শিল্পশহরে দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব ই-বাস চালানোর ক্ষেত্রে মূল সমস্যা চার্জিং স্টেশন। দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ সংস্থা সূত্রে খবর, আপাতত দিঘায় একটি চার্জিং স্টেশন তৈরি হয়েছে। সৈকত শহরে রাজ্য পরিবহণ সংস্থার ডিপোয় ওই চার্জিং স্টেশন তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভূতল পরিবহণ সংস্থার সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত গুহ বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে দিঘায় যে ট্রান্সফর্মার থেকে বাস ডিপোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হত, তাতে সংকুলান হত না। তাই রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার তমলুক ডিভিশনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার দিতে বলা হয়েছিল। সেই মত বর্তমান ট্রান্সফরমার থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই দিঘায় চার্জিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে।’’

দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার দিঘা ডিপো সূত্রে খবর, রবিবার থেকে ওই চার্জিং স্টেশনে ই-বাসের ব্যাটারি পরীক্ষামূলক ভাবে চার্জ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পূর্ণ বাতানুকূল ওই বাসের ব্যাটারি চার্জ করতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। ব্যাটারি পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন বাস সর্বাধিক ১২০ কিমি যেতে পারবে। মোবাইল ফোনে মতো বাসের চালকের সামনে ডিসপ্লে বোর্ডে ব্যাটারি কতটা খরচ হচ্ছে তা বোঝা যাবে। ৩১ আসনের এই বাসে সর্বাধিক ৪০-৪৫ জন যাত্রী বহন সম্ভব। দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হলদিয়ায় ভবানীপুর মৌজায় পরিববহণ সংস্থার বাসডিপো রয়েছে। সেখানে চার্জিং স্টেশন গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই দিঘা থেকে স্বল্প দূরত্বে কাঁথি পর্যন্ত ই-বাস চালাবে এসবিএসটিসি। এর জন্য দুটি ই-বাস ইতিমধ্যেই দিঘা ডিপোয় চলে এসেছে।

Advertisement

আগামী দু-একদিনের মধ্যে কলকাতা থেকে এ ধরনের আরও তিনটি ই-বাস এসে পৌঁছবে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলির একটি দিঘা থেকে রামনগর হয়ে এগরা পর্যন্ত এবং বাকি দুটি বাস প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার তালসারি থেকে মন্দারমণি পর্যন্ত চলবে। রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার মেকানিক্যাল বিভাগের এক আধিকারিক জানান, ধরনের বাস মূলত ব্যাটারির শক্তির উপর নির্ভরশীল। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দিঘায় চার্জিং স্টেশন রয়েছে। বেশি দূরত্বে ই-বাস চালাতে গেলে মাঝপথে ব্যাটারির শক্তি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না গোটা জেলায় আরও কয়েকটি চার্জিং স্টেশন তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ স্বল্প দূরত্বে এই বাস চলাচল করবে। তবে এ ব্যাপারে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার পরিচালন পর্ষদের সদস্য সুকুমার দাস বলেন, ‘‘দিঘা এবং হলদিয়ার সঙ্গে ই-বাসের মাধ্যমে কলকাতার যোগাযোগ অদূর ভবিষ্যতে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তাই কোলাঘাট কিংবা তমলুকে আরও অতিরিক্ত চার্জিং স্টেশন তৈরি করা হবে। এ ব্যাপারে পরিবহণ সংস্থা বিবেচনা করছে।’’

তবে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার দিঘা ডিপো ইনচার্জ দেবাংশু গিরি জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং দিঘায় পরিবেশ দূষণ ঠেকানোর জন্য সোমবার থেকেই দুটি ই-বাস পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। কয়েকদিনের মধ্যে মন্দারমণি এবং এগরা পর্যন্ত আরও তিনটি বাস চলবে।

Advertisement