নিয়ম আগেও ছিল। তবে সেই নিয়ম পালনে কড়াকড়ি ছিল না। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের আমলে এ বার অবশ্য ইদের মতোই মহরমের আগেও বৈঠক ডেকে বিধি-নিষেধ স্পষ্ট করে দিয়েছিল পুলিশ-প্রশাসন। তার জেরেই মহরমের মিছিলে হাতে নয়, অস্ত্র প্রদর্শিত হল বোর্ডে। বাজল না ডিজে। আখড়ার শোভাযাত্রা কমল। অনেক কমিটির শোভাযাত্রায় থাকল না তাজিয়াও।
শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে কড়া পুলিশি সতর্কতায় পালিত হয় মহরম। প্রতি বারের মতো জেলা সদর মেদিনীপুর, পাশের রেলশহর খড়্গপুর ছাড়াও কেশপুর, ঘাটালে মহরম পালনে উৎসাহ ছিল তুলনায় বেশি। সুষ্ঠু ভাবেই সব আয়োজন হয়েছে। তবে প্রশাসনিক নানা বিধি-নিষেধে জাঁক কিছুটা কমিয়ে মহরমের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিল আখড়া কমিটিগুলি। আয়োজনেও ছিল কাটছাঁট। বহু আখড়া কমিটি এ বার শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেনি। পুলিশ- প্রশাসন আগেই জানিয়েছিল, অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা যাবে না। ডিজে বাজানো যাবে না। শোভাযাত্রা শেষ করতে হবে রাত ১১টার মধ্যে। সেই নিয়মে খড়্গপুর, কেশপুর, মেদিনীপুরে পুলিশি নজরদারিতেমহরম পালিত হয়েছে। তবে লাঠি খেলা ছিল।
মেদিনীপুর টাউন মুসলিম কমিটির সম্পাদক সরফরাজ খান মানছেন, “এ বার সব মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা বেরোয়নি। শহরে ন’-দশটি মহল্লা থেকে বেরিয়েছিল।” বিগত বছরে ২৫-২৬টি শোভাযাত্রা বেরোত মেদিনীপুরে। এ বার কমল কেন? সরফরাজের জবাব, “কিছু মহল্লা প্রস্তুতি নিতে পারেনি। সময়েরও একটা ব্যাপার ছিল।” শহরের বিভিন্ন মহল্লা থেকে তাজিয়া বেরোয়। বেশিরভাগ শোভাযাত্রা গোলকুয়াচকে এসেছে। খড়্গপুর শহরেও অন্যবার ১৭টি আখড়া শোভাযাত্রা করলেও এ বার মাত্র ন’টি আখড়া বেরিয়েছিল। পুরাতনবাজার এলাকায় কোনও শোভাযাত্রা হয়নি। পাঁচবেড়িয়া, ভবানীপুর থেকে ন’টি আখড়ার শোভাযাত্রা পৌঁছয় পিরবাবা পর্যন্ত। সকলে সন্ধ্যার পরে শোভযাত্রা শুরু করে। তবে অধিকাংশ শোভাযাত্রায় ছিল না তাজিয়া।
এ বার হাতে অস্ত্র নেওয়ায় কড়াকড়ি থাকায় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে শুধু বোর্ডে অস্ত্র প্রদর্শন করেছে আখড়া কমিটিগুলি। ডিজে, হাইড্রা লাইট না থাকলেও ছিল একাধিক চোঙ ও নানা রঙের আলো। খড়্গপুর শহরের শান ক্লাব আখড়ার কর্মকর্তা শেখ পরভেশ বলেন, “অন্য বার থানায় বৈঠক ডাকা হয় ১০ দিন আগে। এ বার তিন দিন আগে বৈঠক হয়েছে। উচ্চতা নিয়ে নানা নিয়ম ছিল। তাই তাজিয়ার তৈরির প্রস্তুতি নিতে পারিনি।” পাঁচবেড়িয়ার নিউ স্টার আখড়ার সভাপতি শেখ আব্দুল আজিজ বলেন, “আগে তো তিনদিন শোভাযাত্রা হত। তার পরে দু’দিন। তখন আমরা তাজিয়া বানাতাম। চার-পাঁচটা বোর্ডে অস্ত্র থাকত। এ বার একদিন হওয়ায় তাজিয়া করিনি। দু’টি বোর্ডে অস্ত্র রয়েছে।”
কেশপুরে অবশ্য তাজিয়ার সাজে টক্কর চলেছে। তাজিয়ার সৌন্দর্য, অভিনবত্বরে কে কাকে টেক্কা দিতে পারে— বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে এ নিয়ে যেন ‘প্রতিযোগিতা’ চলেছে। বিভিন্ন গ্রামের শোভাযাত্রা এসে পৌঁছেছে ছুতারগেড়িয়ায়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)