দু’বার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সরকারি করোনা হাসপাতালে তাঁকে অবহেলায় মেঝেতে ফেলে রাখার ছবি ভাইরাল হয়েছিল। তার পর থেকে বাড়িতেই ছিলেন। সাহিত্যিক নন্দদুলাল রায়চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে গেলেন মঙ্গলবার। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী শুভা রায়চৌধুরী, পুত্র সৌগত, পুত্রবধূ স্নেহলতা ও নাতনি শুভানন্দাকে।
পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে খড়্গপুরের খরিদার বিধানপল্লির বাড়িতে শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন নন্দদুলালবাবু। আর সংজ্ঞা ফেরেনি তাঁর। পরে চিকিৎসক জানান, তিনি ‘সেরিব্রাল অ্যাটাকে’ মারা গিয়েছেন। পুত্র সৌগত বলেন, “বাবাকে করোনা থেকে বাঁচিয়ে বাড়িতে ফেরাতে পেরেছিলাম। এ বার আর পারলাম না। একসময়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে ঘুরতে থাকা পরিবারে দাদু-ঠাকুমার হাত ধরে খড়্গপুরে চলে এসেছিলেন বাবা। তার পরে অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছেন। রেলের অস্থায়ী কর্মী থেকে সিনিয়র সেকশন অফিসার হয়েছিলেন। বাবা ফাইন আর্টসের ছাত্র হলেও তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল সাহিত্যচর্চা। তাতেই মগ্ন হয়ে থাকতেন। সাহিত্যকে বুকে আঁকড়েই চলে গেলেন।”
নন্দদুলালবাবুর বহু লেখায় উঠে এসেছে রেলশহর খড়্গপুরের কথা। এখানকার রেল কারখানার কথা। তাঁর গুণমুগ্ধদের অনেকেই তাঁকে ‘রেলশহরের কথাকার’ বলে মনে করতেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দু’বার করোনা আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমবার ভর্তি হয়েছিলেন শালবনি করোনা হাসপাতালে। সেখানে তাঁকে মেঝেয় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তারপরে করোনা মুক্ত বলে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। বাড়ি ফেরার দিনকয়েক পরে ফের অসুস্থ হন। এবার ভর্তি করা হয় কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে জানানো হয়, তিনি ফের করোনা আক্রান্ত। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি। বাড়িতেই থাকতেন।
শোকাহত সাহিত্যপ্রেমীরা নন্দদুলালবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বুধবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তিনি খড়্গপুর বইমেলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন। ৭ জানুয়ারি থেকে সেই বইমেলা শুরু হয়েছে। তার মধ্যে এই ঘটনায় শোকাহত বইমেলা কমিটিও। এ দিন শহর কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সাহিত্যিকের বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে মন্দিরতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।