Advertisement
E-Paper

ময়নাতদন্তে ভয়, শিশুর দেহ ভাসাল পরিবারই

একই শিশুর দেহ উদ্ধার হল দু’বার। জলমগ্ন ঘাটালে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় হতভম্ভ প্রশাসনও। বুধবার বিকেলে ঘাটাল থানার শীলারাজনগরে বাড়ির সামনে জমা জলে তলিয়ে যায় দেড় বছরের একটি শিশু। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের ভয়ে পরিবারের লোকজন শিশুটির দেহ ভাসিয়ে দেয় জলেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০১৬ ০২:৪৫

একই শিশুর দেহ উদ্ধার হল দু’বার। জলমগ্ন ঘাটালে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় হতভম্ভ প্রশাসনও। বুধবার বিকেলে ঘাটাল থানার শীলারাজনগরে বাড়ির সামনে জমা জলে তলিয়ে যায় দেড় বছরের একটি শিশু। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের ভয়ে পরিবারের লোকজন শিশুটির দেহ ভাসিয়ে দেয় জলেই। শুক্রবার সকালে শীতলপুরের কাছেই একটি শিশুর দেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে ঘাটাল থানার পুলিশ। পরে জানা যায়, এই শিশুটিই দু’দিন আগে মারা যাওয়া শীলারাজনগরের দেড় বছরের মানস দোলই।

ঘটনার পরেই নড়ে বসেছে পুলিশ ও প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের নির্দেশে এ দিন ঘাটাল থানার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। প্রচার করা হয় বন্যায় কোনও পরিবার যদি শিশুদের সুরক্ষার অভাব বোধ করেন তা হলে যেন থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশ-প্রশাসন তাদের সাময়িক পুনবার্সনের ব্যবস্থা করবে। খাওয়ার ব্যবস্থাও করবে পুলিশ। এর আগেও ঘাটাল মহকুমায় একাধিক বার মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্গতরা কেউ বাড়ি ছাড়েননি।

ওই শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকালে শীলারাজনগরের বাড়িতে বল নিয়ে খেলছিল মানস। বাড়ির সামনেই জল। হঠাৎই শিশুটি গড়িয়ে জলে পড়ে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি দিলীপ মাঝি। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা শিশুটির দেহ উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেয়। মানসের দাদু দুলাল দোলই বলেন, “প্রশাসনের লোকজন আমার নাতির ময়নাতদন্ত করার আর্জি জানায়। কিন্তু এতবড় বিপর্যয়ের পর আবার কাটাকাটি করতে চাইনি আমরা। তাই সৎকারের সিদ্ধান্ত নিই।’’ কিন্তু বন্যার জেরে সৎকারের জায়গা না পেয়ে পরিবারের লোকজন ওই রাতেই নতুন জামা-প্যান্ট পরিয়ে লোকজন শিশুটিকে গ্রাম সংলগ্ন ভেরিবলরামকুন্ডু মাঠে ভাসিয়ে দেন। তাঁদের দাবি, এতে সম্মতি ছিল পড়শিদেরও। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। শিশুটির বাবা তরুণ দোলইয়ের আক্ষেপ, “ময়নাতদন্ত না করার জন্যই আমার ছেলেকে বন্যার জলেই ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেই আমার ছেলের ময়নাতদন্তই হল।”

পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন শিশুটিকে ঘাটাল শহরের একটি উঁচু জায়গায় নিয়ম মেনে সৎকার করা হয়। দিলীপ মাঝি বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমি উদ্যোগী হয়ে বুধবার রাতেই শিশুটিকে সৎকারের ব্যবস্থা করে দেব বলেছিলাম। কিন্তু ময়নাতদন্তের ভয়েই বাড়ির লোক সম্মতি দেননি।’’ শুক্রবার সকালে শীতলপুরে অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে উদ্ধার হয় শিশুটির দেহ। পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। খবর পেয়ে ঘাটাল থানায় যোগাযোগ করেন শিশুটির বাবা।

এখনও ঘাটাল ব্লকের বহু গ্রাম জলমগ্ন। যদিও জল কমতে শুরু করেছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy