Advertisement
E-Paper

শিক্ষিকা খুনে উত্তপ্ত তমলুক, হোটেলে ভাঙচুর! বাবার দাবি, ছক কষে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মেয়েকে

সোমবার উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালালেন হলদিয়া-মেচাদা জাতীয় সড়কের ধারে ওই হোটেলে। অভিযোগ, ওই হোটেলে অসামাজিক কাজ হয়। মদ-গাঁজা-জুয়ার আসর বসে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৩
Tamluk Hotel Murder

(বাঁ দিকে) শ্রাবণী ভুঁইয়া। (ডান দিকে) বীরবাহু মান্না। ছবি: সংগৃহীত।

স্কুলের সরস্বতীপুজোয় যাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন গত শুক্রবার সকালে। তার পর আর খোঁজ মিলছিল না শিক্ষিকার। পরের দিন হোটেল থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের রামতারক এলাকা। সোমবার উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালালেন হলদিয়া-মেচাদা জাতীয় সড়কের ধারে ওই হোটেলে। অভিযোগ, ওই হোটেলে অসামাজিক কাজ হয়। মদ-গাঁজা-জুয়ার আসর বসে। দুষ্কৃতী কার্যকলাপ চলে। বেশ কিছু পোস্টার নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা হাজির হন হোটেলে। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অন্য দিকে, মৃত শিক্ষিকার বাবার দাবি, পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে মেয়েকে। পুলিশ মনে করছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে হত্যাকাণ্ড।

শুক্রবার, সরস্বতীপুজোর দিন সকালে কর্মক্ষেত্রে গিয়েছিলেন ৩২ বছরের শ্রাবণী ভুঁইয়া ঘড়া। পাঁশকুড়ার মেছোগ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে বেশ কিছু দিন ধরে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি। শ্রাবণীর বাবা অভয় ভুঁইয়ার দাবি, স্কুল থেকেই তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মেয়ে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর কথায়, ‘‘ওকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে।’’

অন্য দিকে, যাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে, সেই যুবক শ্রাবণীর এক আত্মীয় বলেই খবর। অভিযুক্তের নাম বীরবাহু মান্না। শনিবার তমলুকের হোটেলের ঘর থেকে শ্রাবণীর দেহ মেলার পরে কীটনাশক পান করেন তিনি। এখন তমলুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীরবাহু।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার হোটেলে উঠেছিলেন শ্রাবণী এবং বীরবাহু। বন্ধ ঘরে কোনও বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়েছে। তার পরেই শ্রাবণীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রেমিক।

শ্রাবণী বিবাহিতা। বছর পাঁচেকের একটি মেয়ে রয়েছে তাঁর। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে শ্রাবণীর বাবার দাবি, অন্য কোনও কারণে খুন হয়েছেন তাঁর মেয়ে। পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, ‘‘হোটেলের ঘরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে যুবতীকে। তার পর অনুতাপ বা পুলিশের ভয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত যুবক। তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। সুস্থ হলেই তাঁকে হেফাজতে নেবে পুলিশ। তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।’’

Murder Tamluk Murder Case Extramarital Affair
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy