Advertisement
E-Paper

খেজুরি কাণ্ডে নাম জড়াল শাসকদলের

দুই তরুণ-তরুণীর সম্পর্কের জন্য ‘জরিমানা’ চেয়ে না পাওয়ায় ওই তরুণের বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল খেজুরিতে। সোমবার রাতের সেই ঘটনায় প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত সহদেব দাস ও দেবাশিস দাস দুজনেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। সহদেব তো আবার অরকবাড়ির তৃণমূলের বুথ সভাপতি। ধৃতদের বুধবার কাঁথি আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

সুব্রত গুহ

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০১৬ ০১:১৮
আদালতে অভিযুক্তরা।

আদালতে অভিযুক্তরা।

দুই তরুণ-তরুণীর সম্পর্কের জন্য ‘জরিমানা’ চেয়ে না পাওয়ায় ওই তরুণের বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল খেজুরিতে। সোমবার রাতের সেই ঘটনায় প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত সহদেব দাস ও দেবাশিস দাস দুজনেই তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। সহদেব তো আবার অরকবাড়ির তৃণমূলের বুথ সভাপতি। ধৃতদের বুধবার কাঁথি আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

খেজুরির সাতসিমলি গ্রামের নির্মল মণ্ডলের ছেলে সঞ্জীবের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে পাশের অরকবাড়ি গ্রামের এক তরুণীর। এই সম্পর্কে দুই পরিবারের সম্মতিও রয়েছে। দু’জনের বিয়ের পাকা কথা বলতেই নির্মলবাবু সোমবার রাতে অরকবাড়ি গ্রামে গিয়েছিলেন। ওই গ্রামে তখন লক্ষ্মী-নারায়ণ পুজোর মেলা চলছিল। সেখানেই নির্মলবাবুকে একা পেয়ে মেলা কমিটির কয়েকজন (তাঁরা স্থানীয় বিবেকানন্দ এরিয়ান ক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত) চেপে ধরে বলে অভিযোগ। তাঁর ছেলে, গ্রামের মেয়ের সঙ্গে ‘অসভ্যতা’ করছে বলে কটূক্তিও শুনতে হয় নির্মলবাবুকে। ‘শাস্তি’ বাবদ নির্মলবাবুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। আর তা না দিতে চাওয়াতেই নির্মলবাবুকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে নির্মলবাবুর স্ত্রী অরকবাড়ি গ্রামের দশজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। আর অভিযুক্তরা সকলেই ছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। আর ধৃত সহদেব দাস আর দেবাশিস দাসের নাম তো ছিল প্রথম দুইয়েই। অভিযোগ দায়েরের পরই পুলিশ তাঁদের গ্রাম থেকেই গ্রেফতার করে। আর বাকিরা পলাতক।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কয়েকটা জায়গায়। কারও ব্যক্তিগত সম্পর্কে এভাবে কি হস্তক্ষেপ করতে পারে কোনও ক্লাব? কেনই বা চাওয়া হল জরিমানা? এটাও কি তাহলে তৃণমূলের দাদাগিরি?

স্থানীয় বাসিন্দারা কিন্তু প্রকারান্তরে মেনে নিচ্ছেন সে কথাই। স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মী-নারায়ণ পুজো উপলক্ষে গত দু’বছর ধরে মেলা বসছে অরকবাড়ি গ্রামে। সেই মেলার আয়োজনের জন্যই বছর দু’য়েক আগে তৈরি হয় এই ক্লাবটা। তবে এই ক্লাবের কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। ক্লাবের সদস্যরা সকলেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক। পুজোর সময় এলেই চলত চাঁদার জন্য জোরজুলুম। আর চাঁদা কম দিলেই হুমকি দেওয়া হত বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, ‘‘আমরা প্রধানের কাছে বহুবার এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কেউ কানে তোলেনি। আর ওদের বাড়বাড়ন্তেই এমন হল।’’

জরিমানার কথা স্বীকার করছেন খেজুরি-২ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি শ্যামল মিশ্রও। তাঁর কথায়, ‘‘জরিমানার বিষয়টা জানি। তবে সহদেব ওই ঘটনায় জড়িত নয়।’’ এ বিষয়ে খেজুরির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রেহানা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগই করা যায়নি। কিন্তু পিটিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিল না কেন পুলিশ? জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ায় দাবি, ‘‘শেষ মুহূর্তে কাগজ তৈরি না হওয়ায় পুলিশ হেফাজতের আপিল করা যায়নি। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ফের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে।’’ নিজস্ব চিত্র।

TMC arrest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy