করোনা-কালে এ বার বিক্ষোভ কফিন ঘিরে!
আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে খড়্গপুর গ্রামীণের বাসিন্দাদের সঙ্গে খড়্গপুর পুরসভার টানাপড়েন চলছিলই। মামলা গড়িয়েছে পরিবেশ আদালত পর্যন্ত। এ বার পুর-প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পরিবেশ দফতরের প্রতিনিধি। পরিদর্শন চলাকালীনই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পড়ে থাকা কফিন ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। আবর্জনার সঙ্গে মৃতদেহ পুঁতে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসী।
মঙ্গলবার খড়্গপুর গ্রামীণের হিরাডিতে এই ঘটনা ঘটেছে। বছর খানেক ধরেই ওই এলাকায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করেছে খড়্গপুর পুরসভা। তবে সেখানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছিল। গ্রামবাসীর তরফে পরিবেশ আদালতে মামলা করা হয়েছে। তবে আপাতত ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে শহরের আবর্জনা ফেলছে পুরসভা। সম্প্রতি এখানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপন পদ্ধতি গড়ার পরিকল্পনা করেছে পুরসভা। কথা হয়েছে এক সংস্থার সঙ্গে। সেই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা দেখতে এ দিন ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যান পুরসভা, ওই সংস্থা ও পরিবেশ দফতরের প্রতিনিধিরা। সেই সময় সেখানে কফিন পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ ছড়ায়।
পরিদর্শক দলের সামনেই বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসী। ভাঙচুর করা হয় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অফিসের টেবিল, পুরসভার স্প্রে যন্ত্র। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলালে পরিদর্শক দল ফিরে যায়। পরে ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা কেটে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এলাকাবাসী। স্থানীয় বিশ্বজিৎ মান্ডি বলেন, “একেই আবর্জনার জেরে আশপাশের গ্রামে দুষণ ছড়াচ্ছে। তারপর এ দিন দেখলাম কফিন পড়ে রয়েছে। যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আমাদের ধারণা এখানে গোপনে মৃতদেহ এনে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে। তাই গ্রামবাসী বিক্ষোভ দেখিয়েছে।”
রেলশহরের পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার অবশ্য বলেন, “মানুষের স্বার্থেই বর্জ্য ব্যবস্থাপন পদ্ধতি গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে ওই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানও হবে। আসলে বিরোধী দল একজোট হয়ে মানুষকে উস্কে এ সব করাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে কেউ কফিন ফেলে এ সব কাণ্ড করেছে মনে হচ্ছে।”
বিষয়টি নিয়ে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী সামসুদ্দিন আহমেদের বক্তব্য, “কফিন ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই ঘটনা। আমরা সব পক্ষকে আলোচনায় ডেকেছি।’’