E-Paper

বিশেষ ট্রেন ফাঁকা, ভাঙচুর ব্রিগেডমুখী বাসে

শেষ পর্যন্ত কার্যত খালি ট্রেনই রওনা দেয়। বিজেপির কয়েকজন কর্মী কিছু কামরার জানালায় গেরুয়া কাপড় বেঁধেছিলেন শুধু।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৩
বিশেষ ট্রেন কার্যত ফাঁকা। শুক্রবার রাতে গিধনি স্টেশনে (বাঁ দিকে)। বেলদা ১ পঞ্চায়েতের পাতলিতে বিজেপি

বিশেষ ট্রেন কার্যত ফাঁকা। শুক্রবার রাতে গিধনি স্টেশনে (বাঁ দিকে)। বেলদা ১ পঞ্চায়েতের পাতলিতে বিজেপি সমর্থকদের বাসে ভাঙচুর (ডান দিকে)। নিজস্ব চিত্র

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে জঙ্গলমহল থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক যাওয়ার দাবি করে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল ‘স্পেশাল ট্রেনে’র প্রায় ফাঁকা কামরার ছবি। গেরুয়া কাপড় বাঁধা কয়েকটি কামরা থাকলেও বিশেষ ওই ট্রেনে যাত্রী ছিলেন হাতে গোনা। শুক্রবার রাতে গিধনি থেকে ঝাড়গ্রাম হয়ে হাওড়া রওনা দেওয়া ওই ট্রেন ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ঝাড়গ্রাম জেলার গিধনি স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশে বিশেষ ট্রেনটি ছাড়ে। গিধনি থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত ট্রেনটির কামরাগুলিতে যাত্রী ছিলেন হাতে গোনা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঝাড়গ্রাম স্টেশন ছাড়ার সময়ও অধিকাংশ কামরা প্রায় ফাঁকাই ছিল।গিধনি ও ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওঠার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত কার্যত খালি ট্রেনই রওনা দেয়। বিজেপির কয়েকজন কর্মী কিছু কামরার জানালায় গেরুয়া কাপড় বেঁধেছিলেন শুধু।

শনিবার সকালের ট্রেনেও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বড় ভিড় চোখে পড়েনি বলে দাবি। ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দেবাশিস কুণ্ডুর ব্যাখ্যা, “রাতে জঙ্গল এলাকায় হাতির চলাচল বাড়ে। তাই দূরের অনেক কর্মী রাতে আসার ঝুঁকি নেননি। অনেকে আগের ট্রেনে কলকাতায় গিয়েছেন, আবার অনেকে ভোর বা সকালের ট্রেন ধরেছেন। তৃণমূল মিথ্যা প্রচার করছে।” ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মুর কটাক্ষ, “বিজেপি যাদের নিজেদের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করে, তারাও এখন পরিবারভিত্তিক পরিষেবা পাচ্ছেন। মোদীর প্রতি বিজেপি কর্মীদেরও মোহভঙ্গ হয়েছে। ফাঁকা ট্রেন তারই প্রমাণ।”

একই ছবি পশ্চিম মেদিনীপুরেও। বিজেপি সূত্রে খবর, ওই জেলা থেকে অন্তত ২০-২৫ হাজার কর্মী-সমর্থককে ব্রিগেডে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মেদিনীপুর থেকে বিশেষ ট্রেনও ছাড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানেও ভিড় বেশি ছিল না। যদিও মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায় বলেন, “আমাদের জেলার বেশিরভাগ কর্মী-সমর্থক শনিবার সকালে রওনা হয়েছেন। অনেকে বিশেষ ট্রেনে, অনেকেই বাসে গিয়েছেন।” দলীয় সূত্রে খবর, ঝাড়গ্রাম জেলায় কর্মীদের নিয়ে যেতে প্রথমে প্রায় ৮০টি বাস বুক করার পরিকল্পনা ছিল। পরে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৩৩টিতে দাঁড়ায়।

ব্রিগেডে যাওয়ার পথেই শুক্রবার রাতে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলের কুলটিকরি এলাকায় বিজেপি কর্মীদের একটি বাসে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। নয়াগ্রাম থেকে ব্রিগেডমুখী ওই বাসের কাচ ভাঙে। শনিবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের বেলদা ১ পঞ্চায়েতের পাতলি এলাকায় বিজেপির একটি বাসে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির এসসি মোর্চার রাজ্য সম্পাদক বিশ্বনাথ দোলাইয়ের অভিযোগ, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বাড়তে থাকা সমর্থন দেখে ভয় পেয়ে তৃণমূল হিংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে।”

শনিবার সন্ধ্যায় পাতলি এলাকায় ওই বাসের চালক রঞ্জিত রাউল অবশ্য অভিযোগ করেন, ‘‘কয়েকজন যুবক হাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে আমার গাড়ি আটকায়। ওরা বলে আমাদের লোক কম আছে। আমরা যাব না। গাড়িটা ভাঙচুর করব, তৃণমূলের নামে অভিযোগ আনতে হবে। সাংবাদিকেরা জিজ্ঞাসা করলে ভয়ে জানিয়েছিলাম তৃণমূল ভেঙেছে।’’বিজেপির দাবি, পুলিশের চাপে বয়ান বদলেছেন ওই বাস চালক।জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তৃণমূলের নারায়ণগড় ব্লক সভাপতি সুকুমার জানা বলেন, ‘‘ঘটনায় তৃণমূল জড়িত ছিল না। এটা প্রথম থেকেই বলে এসেছিলাম।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Brigade Rally Narendra Modi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy