মাত্র দশ মিনিটের ঝড়-বৃষ্টিতে তছনছ পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশ। লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ব্লকের সদর শহর-সহ শতাধিক গ্রাম। বিডিও লোকনাথ সরকার বলেন, “ঝড়ে বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির এখনও সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। এলাকায় এখনও বিদ্যুৎহীন।বোরো ধান এবং সব্জি চাষেরও ক্ষতি হয়েছে।”
মঙ্গলবার বিকেল থেকে আকাশে জমতে থাকে মেঘ আর সন্ধে থেকে শুরু হয় হাল্কা বৃষ্টি। আর তার পরই ঝড়। এই মিনিট দশেকের ঝড়েই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন গোয়ালতোড়ের বাসিন্দারা। তার ছিঁড়ে যাওয়ায় লোডসেডিং-এর কবলে পড়ে গোটা গোয়ালতোড়। জানা গিয়েছে, ঝড়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ব্লকের মাকলি, পাথরপাড়া, গোয়ালতোড়, গোহালডাঙা, পিংবনি প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকার। বিদ্যুৎ দফতরের চন্দ্রকোনা রোডের স্টেশন ম্যানেজার শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকেই মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে গোয়ালতোড় এলাকায় গ্রীষ্মকালীন সব্জি চাষ ভাল হয়। এখনও মাঠে বোরো ধান রয়েছে। ঝড়ের জেরে ধান ঝরে মাঠেই পড়ে রয়েছে। গোয়ালতোড়ের চাষি সমীর রায়, মাকলির শম্ভু সরেনরা বলেন, “স্যালো চালিয়ে কোনও ক্রমে গাছ বাঁচিয়ে ক’দিন আগে থেকেই শশা, ঝিঙে- সহ অনান্য ফসল তুলে বাজারে বিক্রি শুরু করেছিলাম। ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল!” পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিক কুশদ্ধজ বাগের কথায়, ‘‘ঝড়ে গোটা জেলাতেই সব্জির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও আসেনি। তবে শুনেছি গোয়ালতোড়েই ক্ষতিটা সবথেকে বেশি।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রবল কালবৈশাখীর ঝড়ে ঝাড়গ্রাম মহকুমায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক নকুলচন্দ্র মাহাতো জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মহকুমার ৮টি ব্লকের মোট ২,২৩৪টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মহকুমা জুড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বুধবার আকাশ মেঘলা ছিল। সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রার পারদ কমায় শরীর জুড়িয়েছে বাসিন্দাদের।