E-Paper

বন্ধ হয়েছে স্কুল, পুজোয় মনখারাপ পড়ুয়াদের

রাজ্যে বাম সরকারের আমলে পশ্চিম চিস্তিপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রটি শুরু হয়েছিল। পাকা দেওয়াল দোতলা স্কুল ঘর, অ্যাসবেসটাসের ছাউনি।

গোপাল পাত্র

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৯
স্কুল ভবনের হাল। নিজস্ব চিত্র

স্কুল ভবনের হাল। নিজস্ব চিত্র

শিক্ষকের অভাবে স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমছিল। যে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ছিল, ধীরে ধীরে তাদের পাশের স্কুলে স্থানান্তরিত করে স্কুলের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বছর চারেক আগে। পটাশপুরের পশ্চিম চিস্তিপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র এখন কার্যত ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। সরস্বতী পুজোয় যে শিক্ষাকেন্দ্র এক সময় শিশুদের কোলাহলে মেতে থাকত, স্কুল বন্ধ হওয়ায় সেই ছবি আর দেখা যাবে না আজ, শুক্রবার। মনখারপ গ্রামের খুদে ছেলে-মেয়েদের।

রাজ্যে বাম সরকারের আমলে পশ্চিম চিস্তিপুর মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রটি শুরু হয়েছিল। পাকা দেওয়াল দোতলা স্কুল ঘর, অ্যাসবেসটাসের ছাউনি। চিস্তিপুর এলাকায় অন্য হাই স্কুলগুলি দুই-তিন কিলোমিটার দূরে থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাশ করে গ্রামের এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করত। স্থানীয় সূত্রের খবর, বছর পাঁচেক আগে থেকে স্কুলের শিক্ষকেরা কেউ অবসর নেন, আবার কেউ বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। সে সময় থেকেই স্কুলে শিক্ষকের অভাবে পঠনপাঠন বেহাল হতে শুরু করে। ঠিক মতো পড়াশুনা না হওয়ায় অনেক ছাত্র ছাত্রীরা গ্রামের এই স্কুল ছেড়ে দূরে মংলামাড়ো ও পালপাড়া-সহ একাধিক হাই স্কুলে চলে যায়। বছর চারেক আগে স্কুলের হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্রছাত্রীও অন্য স্কুলে ভর্তি হয়। এর পরে দু’জন শিক্ষক নিয়ে চলা স্কুলটি পড়ুয়া শূন্য হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষা দফতর ওই স্কুলের শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করে। এর পরে চার বছর ধরে সেই স্কুল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, আগে স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর আয়োজন করত। খুব জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহের অন্ত ছিল না। পুজোর আয়োজন থেকে উপোস করে পুষ্পাঞ্জলি দিত। গ্রামবাসীও পুজোয় সামিল হতেন। এক পড়ুয়ার অভিভাবক বলছেন, ‘‘ছেলে এই স্কুলে পড়ত। পুজোর সময় উৎসাহী থাকত।’’ সুদীপ দাস এক ছাত্র বলে, ‘‘আগে চিস্তিপুর স্কুলে সরস্বতী পুজো হতো। আনন্দ করতাম। স্কুল বন্ধ থাকায় অন্য স্কুলে ভর্তি হতে হয়েছে। গ্রামের এই স্কুল বন্ধ থাকায় পুজো না হওয়ায় মন খারাপ লাগছে।’’ মনখারাপ স্কুলের প্রাক্তন পড়ুয়া-সহ এলাকাবাসীরও। স্কুল বন্ধ হওয়ার পিছনে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছেন তাঁরা।

বর্তমানে স্কুলের চারদিকে আগাছা ঢেকেছে। গ্রামের কয়েকজন সেই স্কুলের মধ্যে গৃস্থালির সামগ্রী রেখেছেন। রাতে শ্মসানের নিঃস্তব্ধা থাকে। স্কুলের ভিতরে থাকে শেয়াল ও কুকুর। গ্রামের একটি ক্লাবে আজ, শুক্রবার হবে সরস্বতী পুজো। সেখানেই গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা অঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু স্কুলে আর হবে না সরস্বতী পুজো। শোনা যাবে না অঞ্জলির স্তোত্র ‘‘ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে/ বীণা-পুস্তক রঞ্জিত হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোস্তুতে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Saraswati Puja 2026

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy