কংগ্রেস নেতা পবন খেড়ার আগাম জামিনের আর্জি মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। অসম পুলিশের হাতে গ্রেফতারি এড়াতে পবন যে আবেদন জানিয়েছিলেন, শুক্রবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ এস চান্দুরকরের বেঞ তা মঞ্জুর করেছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি ভূঁইয়া শর্মা সম্পর্কে সম্প্রতি কিছু মন্তব্য করেন পবন। ওই মন্তব্যের জেরে কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল। গত ২৪ এপ্রিল গুয়াহাটি হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পবন। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ওই মামলায় রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন:
আদালতে কংগ্রেস নেতা আর্জি জানান, তিনি যদি এই মামলায় আগাম জামিন না পান, তা হলে আগাম জামিনের নিয়মের মূল উদ্দেশ্যই বিফলে যাবে। পবনের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি বিচার করে দেখা প্রয়োজন। তাই তাঁকে গ্রেফতার করে হেনস্থা করার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই আদালতে সওয়াল করেন মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর আরও সওয়াল, পবনের বিরুদ্ধে যে ধারাগুলিতে মামলা রুজু হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি জামিনযোগ্য ধারা। বাকিগুলিতে তাঁকে এখনই গ্রেফতার করার প্রয়োজন নেই।
অন্য দিকে অসম সরকারের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার অভিযোগ ছিল, পবন গ্রেফতারি এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর পাসপোর্টের নকল এবং বিকৃত প্রতিলিপি দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন সলিসিটর জেনারেল। হিমন্তের স্ত্রীর একাধিক দেশের নাগরিকত্বের বিষয়ে যে অভিযোগগুলি কংগ্রেস নেতা তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে আদালতে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, এআইসিসির অন্যতম মুখপাত্র পবন গত মাসে সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ তুলেছিলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট, দুবাইয়ে সম্পত্তি ও আমেরিকার কোম্পানিতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। সেই মন্তব্যের পরই রিণিকি মানহানির মামলা করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
ওই মামলা দায়েরের পরেই পবন তেলঙ্গানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত ১০ এপ্রিল তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের ট্রানজ়িট জামিন মঞ্জুর করে তেলঙ্গানা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় অসম সরকার। তাদের যুক্তি ছিল, অসমের আদালতে আবেদন না-করে তেলঙ্গানায় আবেদনের কোনও যৌক্তিকতা ছিল না। ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট তেলঙ্গানা হাই কোর্টের আবেদনের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। এর পরে গুয়াহাটি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে বিফল হয়েছিলেন তিনি।