যুদ্ধ নয়, ইরানের সঙ্গে এখন যুদ্ধবিরতি চলছে আমেরিকার। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। হোয়াইট হাউসের দাবি, ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি চলায় ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন লঙ্ঘনের কোনও সম্ভাবনা নেই।
১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে (যেমনটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ঘটেছে) ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপের জন্য ওই সময়সীমা পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারেন। এর পর প্রেসিডেন্ট সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিনের সময় নিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। মার্কিন আইন মেনে সামরিক পদক্ষেপের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। ট্রাম্প সরকারের দাবি, ১ মে শেষ হচ্ছে ৬০ দিনের সময়সীমা। তার ঠিক আগেই বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, “আমরা এখন যুদ্ধে করছি না। শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে।” অন্য দিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের মন্তব্য, ‘‘এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। তাই আইনের ওই ‘৬০ দিনের ঘড়ি’ এখন বন্ধ।’’
যদিও ৬০ দিনের সময়সীমা কখন শেষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। কয়েক জন মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞ যুক্তি দিয়েছেন, ইরানে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার ৬০ দিন পর এই সময়সীমাটি নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে তা হয় ২৯শে এপ্রিল। অন্য দিকে, সরকার পক্ষের যুক্তি, কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবহিত করার সময় থেকে সময় গণনা শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে সময়সীমা ১ মে শেষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেস উচ্চকক্ষ সেনেটে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেনেটর টিম কেইন প্রশ্ন তুলেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন আইন অনুযায়ী যুদ্ধের ৬০তম দিনে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবে কি না। জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘‘আমরা এখন শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১০:৪৪
ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ ট্রাম্প, তেহরানের উপর চাপ বৃদ্ধির কথা বলে ফের টানলেন ভারত-পাক প্রসঙ্গ -
২৩:৩৮
এ বার থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’! হরমুজ় প্রণালীর নামটাই বদলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ -
২১:১৪
পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ় প্রণালী সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব তেহরানের, বললেন মোজতবা খামেনেই -
১৮:১৯
‘ঝড় আসছে, যা আসছে কেউ ঠেকাতে পারবে না’! নিজের এআই ছবি দিয়ে ‘রহস্যময়’ বার্তা দিলেন ট্রাম্প -
ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? জানিয়ে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো