Advertisement
E-Paper

আমেরিকার শর্ত কতটা মানানো যাবে ইরানকে, সংশয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা! ‘আশাবাদী’ ট্রাম্প ও ভান্সকে সতর্কও করল সিআইএ

চলতি সপ্তাহেই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকার দেওয়া সমস্ত শর্তই ইরান মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৩:০২

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চলতি সপ্তাহেই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকার দেওয়া সমস্ত শর্তই ইরান মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সংবাদসংস্থা ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএ-র প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের অন্য শীর্ষ আধিকারিককে জানিয়েছেন যে, পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়গুলি ইরান কতটা মানবে, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে যে, কেবল র‌্যাটক্লিফ নন, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এবং প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ এই সংশয়ীদের দলে রয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে ওয়াকিবহাল মহলের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ট্রাম্প আমেরিকার দেওয়া সমস্ত শর্ত মেনে নিতে রাজি নয়। এই অবস্থায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, ট্রাম্পের বিশেষ দূত জারেড কুশনার শান্তিচুক্তির বিষয়ে আশাবাদী। তবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভান্স সুইৎজ়ারল্যান্ড রওনা দেওয়ার আগে তাঁকে এই বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন বলেই খবর।

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলেও চূড়ান্ত সইসাবুদ এখনও বাকি রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। চূড়ান্ত চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকছে, তা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, শুক্রবারের আগেই তা প্রকাশ করে দেবে আমেরিকা। সোমবার জি৭ সম্মেলনের মাঝে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানে ইরানের সঙ্গে শান্তিসমঝোতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ওদের (ইরানের) কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। কারণ, ওদের কাছে ওটা থাকলে ওরা সেটা ব্যবহার করে ফেলত।” ট্রাম্পের এই শর্ত ইরান কতটা মানবে, তা নিয়েই সন্দিহান মার্কিন গোয়েন্দারা।

আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে সন্দিহান হরমুজ় প্রণালী ধরে চলাচল করা জাহাজগুলির মালিকেরাও। বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনকারী সংস্থাগুলির মধ্যে বৃহত্তম, জাপানের মিতসুই ওএসকে লাইন্সের প্রধান ‘ফিনানশিয়াল টাইম্‌স’-কে জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তি কতটা কার্যকরী হচ্ছে, তা দেখেই হরমুজ় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরেও হরমুজ় প্রণালী ধরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
৪ ঘণ্টা আগে
US Iran ceasefire cia Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy