Advertisement
E-Paper

পরমাণু কর্মসূচি কোন পর্যায়ে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামই বা কোথায়? পর্যবেক্ষকদের খতিয়ে দেখতে দেবে ইরান? কী বললেন ভান্স

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাতে সই রয়েছে ট্রাম্প, ভান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফের। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আগামী শুক্রবার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১০:৫৯
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বার্তা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বার্তা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কোনও পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামই বা কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে সে দেশে যাবেন পরমাণু পর্যবেক্ষকেরা। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি (মউ) হয়েছে, সেখানে এই বিষয়ের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কিন্তু ইরান কি পরমাণু পর্যবেক্ষকের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে? সাংবাদিকেরা যখন ভান্সকে এই প্রশ্ন করেন, তখন তিনি দাবি করেন, কেন দেবে না? সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী তো প্রবেশের অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন তেহরানের। আর এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই বলেও দাবি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের।

এনবিসি নিউজ়-কে ভান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার অন্যতম মূল স্তম্ভই হল পরমাণু বিষয়ক। আর সেই মউ-এই উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু উল্লেখ করাই নয়, ইরানও সম্মত হয়েছে যে, তারা পরমাণু পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেবে। তবে বিষয়টি যে খুব সহজেই হয়ে যাবে, মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি। আর এখানেই মার্কিন প্রশাসন ইরানের সদিচ্ছার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাইছে বলে ওই সূত্রের দাবি।

ভান্সের মতে, যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভান্ডার দেখার অনুমতি দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা এবং আমেরিকাকে। আর এ কাজে সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতা করবে ইরান। কিন্তু বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, যে পরমাণু বিষয় নিয়েই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার এত টানাপড়েন, ইরান কি এত সহজে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলবে? সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এত সহজে হাতছাড়া করবে? তবে ভান্স কিন্তু এই বিষয়ের উপর বার বার জোর দিয়েছেন যে, সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, পরমাণু সংক্রান্ত সব বিষয়ে ইরান সম্পূর্ণ রূপে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরমাণু পর্যবেক্ষকেরা ইরান থেকে ফিরে আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন ভান্স। ইরানের হাত থেকে কী ভাবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নেওয়া যায়, কী ভাবে সেই ইউরেনিয়াম বিনষ্ট করা হয়, পরমাণু পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে তা আলোচনা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

প্রসঙ্গত, সোমবার জি৭ সম্মেলনের মাঝে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানে ইরানের সঙ্গে শান্তিসমঝোতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ওদের (ইরানের) কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। কারণ, ওদের কাছে ওটা থাকলে ওরা সেটা ব্যবহার করে ফেলত।” আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ইতিমধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাতে সই রয়েছে ট্রাম্প, ভান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফের। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আগামী শুক্রবার, সুইৎজ়ারল্যান্ডে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন ভান্স। ইরানের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের পর এক সাক্ষাৎকারে ভান্স বলেন, “মউটি মাত্র দেড় পাতার। এটা খুবই সাধারণ একটা নথি।” শান্তিচুক্তির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলি পরবর্তী সময়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

US Iran Nuclear Program
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy