নতুন ব্লক সভাপতিকে নিয়ে অসন্তোষ। তার জেরে স্লোগান, ধস্তাধস্তি। ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কর্মীকে হেনস্থা। ওই ঘটনায় চন্দ্রকোনার ‘বিদ্রোহী’ নেতাকর্মীদের আপাতত সতর্ক করল তৃণমূল। এখনই কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।বৃহস্পতিবার বিকেলে চন্দ্রকোনার দলের দুই গোষ্ঠীর নেতাদের মেদিনীপুরে তলব করা হয়। যুযুধানদের নিয়ে বৈঠক হয়। ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, দলের জেলা চেয়ারম্যান দীনেন রায়। পাশাপাশি ছিলেন চন্দ্রকোনার বিধায়ক ছায়া দোলই, দলের নতুন ব্লক সভাপতি জগজিৎ সরকার, সহ- সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় প্রমুখ। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে ‘বিদ্রোহী’- দের সতর্ক করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামী দিনে এমন ঘটনা দল বরদাস্ত করবে না। বৈঠক শেষে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘ব্লক সভাপতি নিয়ে বুধবার চন্দ্রকোনায় একটা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছিল। বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে সবাই স্বীকার করেছে এটা ঠিক হয়নি। আমরা সবাই দলের সৈনিক। পুরনো সব পদে সবাই দায়িত্ব পালন করব।” বৈঠক শেষ চন্দ্রকোনার বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জিত মিদ্যাও বলেন, “বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমাদের দাবি লিখিত ভাবে জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি। এখনই আর কিছু বলব না।”
চন্দ্রকোনায় নতুন ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণার পরই তেতে উঠেছিল এলাকা। বুধবার শাসক দলের একাংশ রাস্তায় নেমে দলের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদে শামিল হন। একাধিক অঞ্চল সভাপতি- সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতৃত্বেরা পদত্যাগ করছেন বলে দাবি করেন। গোলমালের আঁচ পেয়ে ব্লক অফিসে আলোচনায় বসেছিলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার এক প্রতিনিধি। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের হাতে শারীরিক ভাবে নিগৃহীত হন প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার ওই কর্মী। তৃণমূলের এক সূত্রের খবর, বুধবার চন্দ্রকোনায় দলের একাংশের আচরণকে ভাল ভাবে নেননি জেলা নেতৃত্ব। বিশেষ করে ভোট কুশলী সংস্থার কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণে ক্ষুব্ধ রাজ্য নেতৃত্বও। বুধবার রাতেই জেলা সভাপতি নিজে যাবতীয় ঘটনার খোঁজখবর নেন। বৃহস্পতিবার দু’পক্ষকেই মেদিনীপুর তলব করেন জেলা সভাপতি। জেলা পরিষদের হলে বৈঠক হয়। পিকে-র সংস্থার প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
কয়েকমাস আগে চন্দ্রকোনায় একাধিক গোষ্ঠী ছিল।এখন অবশ্য দুটি গোষ্ঠী সক্রিয়। একদিকে ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি অমিতাভ কুশারী ও সহ সভাপতি রামকৃষ্ণ । উল্টোদিকে রয়েছেন চন্দ্রকোনার বিধায়ক ছায়া, সৌগত দণ্ডপাটেরা। চন্দ্রকোনা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হীরালাল ঘোষও এখন বিধায়কের শিবিরেই রয়েছেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চন্দ্রকোনা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বর্তমানে প্রশাসন অরূপ রায়, চন্দ্রকোনা শহর সভাপতি প্রদীপ সাঁতরাও এখন বিধায়ক গোষ্ঠীতেই অবস্থান করছেন। নতুন ব্লক সভাপতি জগজিৎ-ও বিধায়ক গোষ্ঠীরই অনুগামী। দলের এক সূত্র জানাচ্ছে, বৈঠকের পরে আগে বৈঠকস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান ছায়ারা। পরে বেরোন রামকৃষ্ণেরা। দু'পক্ষের না কি বাক্যালাপও হয়নি! বৈঠকস্থলের পাশেই ছিলেন টিম পিকে-র দুই কর্মী। বিষয়টি না কি তাঁদেরও নজর এড়ায়নি।