Advertisement
E-Paper

মেরামতি, চাকা বদল সবই রাস্তায়

কেউ তো নিষেধ করেনি, তাই রাস্তার উপরই অবাধে চলে বাস-লরি মেরামতির কাজ। ফুটপাথ বলে প্রায় কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। প্রধান সড়কটিও ক্রমে বাস-লরির দখলে চলে যাচ্ছে।

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৬ ০০:৩৮
রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে গাড়ি। ঘাটালের ময়রাপুকুরে।ছবি: কৌশিক সাঁতরা।

রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে গাড়ি। ঘাটালের ময়রাপুকুরে।ছবি: কৌশিক সাঁতরা।

কেউ তো নিষেধ করেনি, তাই রাস্তার উপরই অবাধে চলে বাস-লরি মেরামতির কাজ। ফুটপাথ বলে প্রায় কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। প্রধান সড়কটিও ক্রমে বাস-লরির দখলে চলে যাচ্ছে। দিনে-দুপুরে ব্যস্ত সময়ে বাস, লরি, ট্রেকার রাস্তার উপর দাঁড় করিয়েই চলে ইঞ্জিন মেরামতির কাজ, কোথাও বদলানো হয় চাকা। এ দিকে অপ্রশস্ত রাস্তায় যানজটে হাঁসফাঁস শহর। প্রতিদিন বাড়ছে দুঘর্টনা।

কুশপাতা থেকে আড়গোড়া, কৃষ্ণনগর, ময়রাপুকুর— ছবিটা সর্বত্র একই। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন চোখে দেখেও কোনও ব্যবস্থা নেয় না। ছোট-বড় দুঘর্টনা ঘটেই চলছে। ইদানীং এই তালিকায় যোগ হয়েছে দাসপুরের নামও। রাস্তার উপরেই রাতারাতি তৈরি হয়ে যায় বাস, লরির স্ট্যান্ড। এ সব কথা প্রায় সকলেই জানেন। রাস্তার উপর গাড়ি রাখতে নেই তাও জানা আছে বাসমালিকদের। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

অব্যবস্থার কথা স্বীকার করেছেন ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান বিভাস ঘোষও। তিনি বলেন, “রাস্তার উপরে বাস–লরি দাঁড়িয়ে থাকার ফলেই শহরে দুঘর্টনা বাড়ছে। পুলিশকেও বিষয়টি জানিয়েছে। এ বার পুরসভার তরফেও অভিযান চালানো হবে।” ঘাটালের বিডিও সঞ্জয় পণ্ডিত বলেন, “দ্রুত বাস ও লরি সংগঠন গুলির সঙ্গে বৈঠক করব।”

কিন্তু কী বলছেন গাড়ির মালিকেরা?

বাস মালিক সংগঠনের পক্ষে প্রভাত পান বলেন, “আসলে ঘাটালে তো পর্যাপ্ত জায়গার বড় অভাব। কোথায় রাখব বাস? বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই রাখি।’’ লরি মালিকদের পক্ষে বাসুদেব সাউ বলেন কিন্তু স্বীকার করেছেন, “এটা লরি মালিকদেরই দোষ। বহুবার সংগঠন নির্দেশ দিয়েছে, ফাঁকা জায়গায় কাজ করাতে হবে। কিন্তু রাস্তার উপর কাজ করানোর পদ্ধতি এখনও বন্ধ করা যায়নি। কিন্তু এই ভাবে গাড়ি মেরামতির কাজ যাঁরা করেন। তাঁদের উপর কি তেমন কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই?

তবে গ্যারেজ মালিকদের পক্ষে ইকবাল আহমেদ যা শোনানলেন, তাতে গোটা ব্যবস্থা সম্পর্কেই প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। তিনি বলেন, “রাস্তার ধারে কাজ করা যাবে না-এমন কথা কেউ বলেনি। ফলে এই ভাবনা মাথাতেই আসেনি।’’

ঘাটাল শহরে ঢোকার আগে নিমতলার পর থেকে একেবারে ময়রাপুকুর মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা শুধু এই বাসা-লরির দৌরাত্ম্যে বেহাল। একই চিত্র দাসপুর ও চন্দ্রকোনা শহরেও। ঘাটালে প্রধান দু’টি সড়ক। একটি গিয়েছে পাঁশকুড়া পর্যন্ত অন্যটি চন্দ্রকোনা। দু’টি সড়কই যানজটে নাকাল। পুলিশের দাবি, আগে এ ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চাকা বদলানো বা অন্যান্য কাজ করত না বাস-লরিগুলি। দু’চার মিনিটের দাঁড়িয়ে হয়তো যাত্রী তুলত। কিন্তু ইদানীং রাস্তার উপর ঘণ্টার পর গাড়ি রেখেই কাজও শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কিন্তু অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পরোক্ষ মদতেই চালক এবং গ্যারেজ মালিকরা বেপরোয়া হয়ে গিয়েছেন। সেই সাহসে ভর করেই ক্রমশ শহরের অর্ধেক রাস্তা গ্যারেজ হয়ে উঠছে। প্রধান সড়কের দু’পাশে বাস-লরি দাঁড়িয়ে থাকছে, সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে রাস্তা। দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে মোটরবাইক থেকে দূরপাল্লার বাস, লরি।

ঘাটাল শহরের উপর দিয়ে স্থানীয় এবং দূরপাল্লার প্রায় শতাধিক বাস, শ’য়ে শ’য়ে পণ্যবাহী লরি যাতায়াত করে। ঘাটালের উপর দিয়ে গেলে কলকাতার দূরত্ব অনেক কম হয়। ফলে বেশিরভাগ গাড়িই জাতীয় সড়কের বদলে চন্দ্রকোনা রোড থেকে ঘাটাল শহরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই শহরের রাস্তায় চাপ বাড়ছে। সে তুলনায় বাড়ছে না রাস্তার মাপ। মানুষের যাতায়াত বাড়ছে বলে বাড়ছে ব্যবসাও। একাধিক জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় বড় ধাবা। সেখানেও রাস্তার উপরে ট্রাক দাঁড় চালক খালাসিরা বিশ্রামও নিচ্ছেন। রাস্তার পাশে পূর্ত দফতরের সব জায়গায়ই প্রায় বেদখল। কোথাও ইমারতও তৈরি হয়েছে। কোথাও বসেছে ব্যবসায়ী। সব মিলিয়ে নাজেহাল ঘাটালবাসী।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy