Advertisement
E-Paper

করোনায় কড়াকড়ি, সেমিনারে এলেন না চিনের অধ্যাপকেরা

হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সত্যেন্দ্রনাথ বোস প্রেক্ষাগৃহে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গণিত ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্মেলন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:৩৭
 করোনা নিয়ে সতর্কতার প্রচার। হলদিয়া মেলায়। নিজস্ব চিত্র

করোনা নিয়ে সতর্কতার প্রচার। হলদিয়া মেলায়। নিজস্ব চিত্র

করোনাভাইরাসের জেরে পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়েছে জেলার পরচুলা ব্যবসায়। এবার শিক্ষা ক্ষেত্রেও কার্যত ‘থাবা’ বসাল ওই মারণ ভাইরাস। করনোভাইরাস এবং সেই সংক্রান্ত কড়াকড়ির জেরে হলদিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের গণিত-সম্মেলনে আসা হচ্ছে না চিনের পাঁচ অধ্যাপকের।

হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সত্যেন্দ্রনাথ বোস প্রেক্ষাগৃহে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গণিত ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্মেলন। তিন দিন ধরে চলা ওই সেমিনারে আমন্ত্রিত ছিলেন চিনের পাঁচ অধ্যাপক পাওতিং লিউ, চিনউ কাও, শিয়াং লি, ইউয়াংনো চো এবং জিন পেং। চিনউ ওশেন ইউনিভার্সিটি অফ চায়না’র অধ্যাপক। হুয়াংগাং নর্মাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন অধ্যাপক জিন পেং। শিয়াং লি বেজিং ইউনিভার্সিটি অফ কেমিক্যাল টেকনোলজির অধ্যাপক আর ইউয়াংনো চো হলেন নানজিং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক। গত ৩০ জানুয়ারি পাওতিং ই-মেলে সেমিনার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, চিনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সরকারের তরফে তাঁদের গতিবিধির উপরে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে তিনি এবং অন্য অধ্যাপকেরা সেমিনারে যোগ দিতে হলদিয়ায় আসতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, চিনের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। ওই ভাইরাসে চিনে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ১৬ হাজার মানুষ। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য, হুবেইয়ের প্রাদেশিক রাজধানী শহর উহান, ঝেয়িয়াং প্রদেশের ওয়েংঝাও -সহ বেশ কয়েকটি শহর তালাবন্দি করা হয়েছে। চিনের ১৯টি শহর বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। উড়ান এবং ট্রেন, বাসের মতো অন্য পরিবহণ ব্যবস্থাও বন্ধ। বন্ধ রয়েছে স্কুল কলেজ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হলদিয়াতে আসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় অধ্যাপকেরা।

হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দীপককুমার জানা বলেন, ‘‘চীন থেকে পাঁচ অধ্যাপককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা আসতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের দাপটে বিশ্বব্যাপী যে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, তাতে বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই জন্যই আন্তর্জাতিক যাতায়াতেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।’’

অবশ্য ভাইরাস যতই ‘থাবা’ বসাক, শীঘ্রই তা আয়ত্তে আসবে বলে আশাবাদী চিনের ওই অধ্যাপকেরা। ই-মেলে পাওতিং লিখেছেন, ‘সার্স ভাইরাস আক্রমণের সময়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা থেকে মনে হচ্ছে, দু-মাসের মধ্যে একে প্রতিহত করা সম্ভব’।

করোনাভাইরাস নিয়ে ভারতেও বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। হলদিয়া বন্দরে বিদেশি জাহাজের কর্মীদের থার্মোস্ট্যাট যন্ত্র দিয়ে শারীরিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে কয়েকদিন ধরে। তৈরি হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ডও। বন্দর সূত্রের খবর, এ দিন ছ’টি জাহাজের ১৪৩ জন কর্মীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও কর্মীকেই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, এ দিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওই সেমিনারে ছিলেন সার্বিয়ার অধ্যাপক আন্দ্রেজ টেপাভেসেভিক, অধ্যাপক জয়া শীল, সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, এম এন বন্দোপাধ্যায় এবং রেজিস্ট্রার অঞ্জন মিশ্র প্রমুখ।

Haldia Engineering College Coronavirus Chinese Professor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy