কোথাও প্রতিপক্ষ এসএফআই, কোথাও ডিএসও, আবার কোথাও টিএমসিপির দুই গোষ্ঠী— মনোনয়ন তোলার প্রথম দিনে অশান্তি ছ়ড়াল কলেজগুলিতে। ছাত্র সংসদের ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। অশান্তির আশঙ্কা ছিলই। বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে একাধিক কলেজে সংঘর্ষে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন ছাত্র। অবরোধ হল রাস্তাও। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
কোলাঘাট রবীন্দ্রভারতী কলেজে এসএফআইয়ের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র তুলতে যাওয়া ১৫জন প্রস্তাবিত প্রার্থী এবং সমর্থকদের মারধর করেছে টিএমসিপি। স্থানীয় সিপিএম বিধায়ক ইব্রাহিম আলিকেও আক্রমণের করা হয়েছে। তিন জনের মাথা ফেটেছে, জখম আরও তিন জন এসএফআই সদস্য। টিএমসিপি-র দাবি, এসএফআইয়ের আক্রমণে তাঁদেরও এক ছাত্রী-সহ পাঁচ সমর্থক জখম। সকলকেই কোলাঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইব্রাহিম আলির অভিযোগ, ‘‘যাতে আমাদের কেউ প্রার্থী হতে না পারে সে জন্য তৃণমূল নেতা মোতাহার হোসেন মল্লিক বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের সদস্যদের মারধর করেছেন। আমার উপরেও চড়াও হয়েছিলেন।’’ কোলাঘাট ব্লক তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি মোতাহার অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘মনোনয়নের অজুহাতে সিপিএম বিধায়ক প্রায় ৫০-৬০ জনকে নিয়ে কলেজে ঢুকছিলেন। পুলিশ বাধা দেয়।’’
কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজেও ডিএসও-টিএমসিপি সংঘর্ষে ১৪জন ডিএসও কর্মী জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। এ দিনই ওই কলেজে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৫৮জন টিএমসিপি ও তিন জন ডিএসও প্রার্থী। তাঁরা সকলেই অন লাইনে ফর্ম তুলেছিলেন। ডিএসও-র অভিযোগ, মনোনয়ন জমা দিতে গেলে সিঁড়িতেই তাঁদের বেধড়ক মারধর করে তৃণমূল সমর্থকরা। জখমদের মধ্যে তিন প্রার্থী-সহ আট জন কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তমলুক কলেজেও মনোনয়নপত্র তোলা নিয়ে গোলামালে ডিএসও সমর্থকদের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে টিএমসিপির বিরুদ্ধে।
দাসপুরের চাঁইপাট কলেজেও সংঘর্ষে জড়িয়েছে এসএফআই ও টিএমসিপি। এ দিন সকাল থেকেই মনোনয়পত্র তোলার জন্য লাইন দিয়েছিল দু’পক্ষ। এসএফআইয়ের অভিযোগ ১৫টি আসনের জন্য টিএমসিপি ৬০টি মনোনয়নপত্র তুলে নেয়। ততক্ষণে ২টো বেজে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র তোলা বা জমা দেওয়ার কাজ হয় ২টো পর্যন্ত। কিন্তু তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এসএফআইয়ের প্রার্থীরা। তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ দরজা বন্ধ করে তাঁদের ভিতরে ঢুকিয়ে নেন। তাঁদের দেওয়া হয় মনোনয়নপত্র।
নির্দিষ্ট সময়ের পর কেন মনোনয়ন পত্র দেওয়া হবে, প্রশ্ন তুলে কলেজের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শাসকদলের ছাত্র সংগঠন। সুলতানগর-চাঁইপাট সড়কেও অবরোধ করে তারা। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আটকে থাকেন কলেজের শিক্ষক ও এসএফআই-এর ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী। টিএমসিপির চাঁইপাট কলেজ ইউনিটের সহ-সভাপতি প্রণব মাঝি বলেন, “ওই সব মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা না-করলে আমরা নিবার্চনে যোগ দেব না।”
যদিও এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক সৌমেন বেরা বলেন, “আমাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল হলে আমরাও আন্দোলনে প্রস্তুত। প্রয়োজনে আদালতে যাব।”
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষেও উত্তপ্ত হয়েছে কলেজ চত্বর। পাঁশকুড়া বনমালী কলেজে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা আনিসুর রহমান ও জাইদুল খানের অনুগামী টিএমসিপি কর্মী–সমর্থকরা কলেজে ঢুকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আনিসুর অনুগামী দুই সমর্থক জখম হন বলে অভিযোগ। ’’
ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজেও সংঘর্ষের সূত্রপাত বুধবার রাতে। অভিযোগ শহরে এক টিএমসিপি কর্মীকে মারধর করে রূপছায়া মোড় এলাকায় তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা কার্যালয়ে আটকে রেখেছিল অন্য গোষ্ঠীর লোকজন। ওই দিনই রাজ কলেজে পড়ুয়াদের আই কার্ড কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে টিএমসিপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রবল হাতাহাতি হয়েছিল। তার পর থেকে গোটা চত্বর ঘিরে রেখেছিল সশস্ত্র পুলিশ। পরিচয়পত্র দেখে শুধুমাত্র প্রার্থীপদে ইচ্ছুক পড়ুয়াদের কলেজে ঢুকতে দেওয়া হয়।