Advertisement
E-Paper

WB Municipal Election 2022: সংসার সামলে ভোটের ময়দানে মুখোমুখি ননদ-বৌদি

কাঁথি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী শ্রাবণী পাল। ওই ওয়ার্ডেই বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শ্রাবণীর ননদ অপর্ণা পাল বেরা।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৭:৪৮
একই দেওয়ালে ননদ-বৌদির ভোট প্রচার।

একই দেওয়ালে ননদ-বৌদির ভোট প্রচার। নিজস্ব চিত্র।

একজন বৌদি, অন্যজন ননদ। ঠাঁই আলাদা হলেও পারিবারিক সম্পর্কের অটুট জোড়ে তা কোনও আঁচড় কাটতে পারেনি। অথচ, পুরভোট তাঁদের দুই প্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কারণ পুরভোটে তাঁদের প্রার্থী করেছে তৃণমূল এবং বিজেপি।

সংসারে প্রতিপক্ষ হিসাবে তাঁদের লড়াই না থাকলেও রাজনীতির আঙিনায় ননদ-বৌদির ‘তুতু ম্যায় ম্যায়’ দেখার জন্য অপেক্ষায় কাঁথি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সংসারে লড়াই না থাকলেও ভোট যুদ্ধে যে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না তা জানিয়ে দিয়েছেন ননদ অপর্ণা পাল বেরা(বিজেপি) ও বৌদি শ্রাবণী পাল। প্রতিবেশীদের দুই আপনজনই এখন বিরুদ্ধ দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ায় ননদ-ভাজের কাকে তাঁরা সমর্থন করবেন তা নিয়ে দোটানায় পাল পাড়ার মানুষ।

কাঁথি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী শ্রাবণী পাল। ওই ওয়ার্ডেই বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শ্রাবণীর ননদ অপর্ণা পাল বেরা। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন স্ক্রুটিনির সময় মহকুমা শাসকের অফিসে হাজির ছিলেন দু’জনেই। তবে বসার জায়গা ছিল আলাদা। রাজনীতিতে বিরোধী হলেও শ্রাবণী ও অপর্ণার পারিবারিক সম্পর্ক বরাবরই মধুর বলে জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। দুই পরিবারের বাড়ি একেবারে পাশাপাশি। মাঝখানে ব্যবধান বলতে শুধু একটা মাটির উনুন। অপর্ণার মা বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে জানালেন, ‘‘মেয়ে আর বৌমা দুজনেই লটারি কেটেছে। কার ভাগ্যে পুরস্কার জুটবে সেটা আমরা কেউই জানি না।’’

দুই বাড়িতেই নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে পুরোহিতের কাজ করেছেন বাবু পাহাড়ি। এবার পুরভোটে কাকে সমর্থন করবেন! প্রশ্ন শুনে হাসিমুখে বাবু বলেন, ‘‘সত্যিই বড় উভয়সঙ্কট। বুঝতেই পারছি না কী করব!’’ পালপাড়ার মহিলারা অবশ্য জানাচ্ছেন, যেই জিতুক এবার তাদের ঘর থেকেই কাউন্সিলর হচ্ছে। সকলের ভালমন্দ দেখার ভার পাচ্ছে। এটা কি কম কথার!

শ্রাবণী পাল (বাঁদিকে)। অপর্ণা পাল বেরা। নিজস্ব চিত্র।

শ্রাবণী পাল (বাঁদিকে)। অপর্ণা পাল বেরা। নিজস্ব চিত্র।

সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢালাই রাস্তা ধরে শ্রাবণী এবং অপর্ণার বাড়ি যাওয়ার গোটা রাস্তা ঘাসফুল আর পদ্মের পতাকা, ব্যানারে ঢেকেছে। বাদ যায়নি কোনও দেওয়ালও। দেওয়ালে সব জায়গাতেই ননদ এবং বৌদি পাশাপাশি। বিধানসভা ভোটে এই ওয়ার্ড থেকে বিজেপি বিধায়ক অরূপ দাস ৬৭৫ ভোটের ব্যবধানে এগিয়েছিলেন। তবে পুরভোটে পতাকা কিংবা ব্যানার-ফেস্টুনের লড়াইয়ে অবশ্য খানিকটা এগিয়ে তৃণমূল। এ দিন মনোনয়ন স্ক্রুটিনি পর্বের ফাঁকে অপর্ণা বলেন, ‘‘আমি জানতামই না বৌদি তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দিতে এসে কথা হল বৌদির সঙ্গে। যেহেতু গতবার আমাদের দলের ব্যবধান অনেক বেশি ছিল সেই ব্যবধানেপ থেকেও এবার বেশি ব্যবধানে জয়ী হতে পারব বলে আশাবাদী। রাজনীতির লড়াইতে বৌদিকে হারাতে পারলে খুশিই হব।’’

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার উদাহরণ রয়েছে। সে কথা মনে করাতেই শ্রাবণী বলেন, ‘‘ননদ ও তার বাড়ির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বরাবরই মধুর। দলনেত্রী আমাকে বিশ্বাস করে প্রার্থী করেছেন। তাই কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওয়ার্ডে উন্নয়নের রথকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি বদ্ধপরিকর। পারিবারিক সম্পর্ক পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। রাজনীতির লড়াই হাড্ডাহাড্ডি।’’

ননদ-ভাজের লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত কে জেতে, সেদিকেই তাকিয়ে পালপাড়া।

TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy