Advertisement
E-Paper

অধ্যক্ষ পদ ছাড়ায় জল্পনা ঘাটাল কলেজে

এক মাসও হয়নি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ঘাটাল রবীন্দ্র শতবাষির্কী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার দে। আর তার জায়গায় ফের টিচার ইন চার্জ হলেন লক্ষ্মীকান্ত রায়। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কলেজের পরিচালন কমিটির এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকেই চন্দনবাবু সভাপতি তথা ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ের হাতে পদত্যাগ তুলে দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০১৫ ০১:০২

এক মাসও হয়নি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ঘাটাল রবীন্দ্র শতবাষির্কী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার দে। আর তার জায়গায় ফের টিচার ইন চার্জ হলেন লক্ষ্মীকান্ত রায়।

কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কলেজের পরিচালন কমিটির এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকেই চন্দনবাবু সভাপতি তথা ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ের হাতে পদত্যাগ তুলে দেন। চন্দনবাবুর পদত্যাগের পর ফের কলেজের প্রাক্তন টিচার ইনচার্জ লক্ষীকান্ত রায়কে দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এ দিনই চন্দনবাবু কলেজের সমস্ত দায়িত্ব লক্ষীকান্ত রায়কে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার এক মাসের মধ্যেই অধ্যক্ষ কেন ছেড়ে দিলেন কলেজ? যদিও এই বিষয়ে চন্দনবাবু কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আর তাতেই ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা।

কলেজের একটি সূত্রের খবর, ২০১৩ সাল থেকে ঘাটাল কলেজে স্থায়ী কোনও অধ্যক্ষ ছিলেন না। ফলে কলেজের পঠনপাঠন-সহ নানা বিষয়ে বেনিয়ম চলছিল বলে অভিযোগ। শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত লক্ষীকান্ত রায় কলেজের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘাটাল কলেজ এক প্রকার শাসক দলের হাতের মুঠোয় চলে আসে। লক্ষীকান্তবাবুর সময়ই অমিত রায় নামে কলেজের এক শিক্ষক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকদের হাতে নিগৃহীত হন। এমনকী এই লক্ষ্মীকান্তবাবুর হস্তক্ষেপেই অমিতবাবুর অনুপস্থিতিতে ক্ষমা চেয়েই পার পেয়ে যায় অভিযুক্ত। এই সময়ই কলেজে অধ্যক্ষ হয়ে আসেন বাগনান কলেজের পদার্থবিদ্যার বিভাগীয় প্রধান চন্দনকুমার দে।

জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগেই চন্দনবাবুর হস্তক্ষেপে কলেজে ১৯ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়েছে। তবে কলেজে নিজস্ব তহবিলের হিসেব নিয়ে চন্দনবাবু তদন্ত শুরু করেছিলেন। এছাড়া কলেজের সব শিক্ষকদের সময় মতো কলেজে আসা এবং কর্তব্যের ব্যাপারেও চন্দনবাবু যথেষ্ট কড়া ছিলেন। এই সব ঘটনার পরই কলেজের কয়েকজন শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে চলে যান বলে জানা গিয়েছে। তাহলে কি শাসকদলের চাপেই কোনওভাবে ইস্তফায় বাধ্য হলেন চন্দনবাবু? এ বিষয়ে কোনও কথাই বলতে চাননি চন্দনবাবু। তাই ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।

এই বিষয়ে ঘাটাল কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি শঙ্কর দোলই বলেন, ‘‘চন্দনবাবুর এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে উনি বিষয়টি এড়িয়ে দ্রুত বৈঠক ডাকার কথা বলেন। চিঠিতেও তো উনি শারীরিক অসুস্থতার কথাই লিখেছেন। এছাড়া উনি আর কিছু জানাননি।’’

এ দিকে কলেজের প্রাক্তন টিচার ইনচার্জ লক্ষীকান্ত রায়কে ফের ওই পদে বসানো নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে। লক্ষীকান্তবাবু বর্তমানে ঘাটাল পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল মনোনীত কাউন্সিলরও। তিনি সেই দায়িত্ব সামলে পারবেন কলেজের এর বড় দায়িত্ব পালন করতে? আর কোনও বিকল্প পাওয়া গেল না কেন? এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি শঙ্কর দোলইয়ের বক্তব্য, ‘‘পরিচালন কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তেই লক্ষীকান্ত রায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা আমার একার দায়িত্ব নয়।” তবে কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে নিয়মানুযায়ী কলেজের সমস্ত শিক্ষকদের বৈঠক করার কথা। কিন্তু এ দিন তা করা হয়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy