সপ্তাহ দু’য়েক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই নবনির্মিত কলেজে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। এ বার সেই সরকারি কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। শনিবার কেশিয়াড়ির তেলিপুকুরে ‘কেশিয়াড়ি সরকারি মহাবিদ্যালয়’-এর উদ্বোধন করেন মহকুমাশাসক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
উদ্বোধন ঘিরে আবার দেখা দিয়েছে জটিলতা। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশ মেনে এ দিন কলেজ ভবন নয়, পাঠক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। পরে ভবনের উদ্বোধন হতে পারে। যদিও মহকুমাশাসক তথা কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি সঞ্জয়বাবুর বক্তব্য, “কেশিয়াড়ির এই সরকারি কলেজের পঠনপাঠন শুরু হয়ে গিয়েছে। কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য আমাকে বলা হয়েছিল। সেই মতো আমি উদ্বোধন করেছি।’’
২০১৩ সালে একাধিক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট ৭টি কলেজ গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সরকারি খাসজমি ও ব্যক্তিগত দানের জমিতেই কলেজ গড়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবিত কলেজগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত দাঁতন-২, কেশিয়াড়ি, গোপীবল্লভপুর-২ এবং খড়্গপুর-২ ব্লকে কলেজ ভবন গড়ার কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে ১৩ জুলাই থেকে ক্লাসও শুরু হয়েছে। মোহনপুর ব্লকে কলেজ ভবনের কাজ প্রায় শেষ। তবে এখানে স্থানীয় স্কুল ভবনে ইতিমধ্যেই ওই কলেজের পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। জট কাটিয়ে নারায়ণগড় কলেজের জন্য বরাদ্দ জমিরও রেজিষ্ট্রি হয়ে গিয়েছে। তবে নতুন এই কলেজগুলিতে এখনও সীমানা পাঁচিল হয়নি। জেলা পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরি বলেন, “জেলা পরিষদের তরফে কলেজ নির্মাণের কাজ দেখভাল করা হচ্ছে। অধিকাংশ কলেজে ক্লাস চালু হয়েছে। সীমানা পাঁচিলের কাজও এগোচ্ছে।’’
নতুন কলেজগুলির মধ্যে প্রথম কেশিয়াড়ি কলেজেরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। কেশিয়াড়ি শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে প্রায় ৫ একর সরকারি জমিতে সাড়ে ৫ কোটি টাকায় তৈরি দ্বিতল কলেজ ভবনে গ্যালারি ক্লাসরুম, দু’টি সাইকেল স্ট্যান্ড, স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি সেন্টার, গ্রন্থাগার রয়েছে। কলা বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, সাঁওতালি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান বিভাগে প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, নৃতত্ত্বে পঠনপাঠন চালু হয়েছে। পড়ুয়া ভর্তি হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশো। ১০ জন স্থায়ী শিক্ষকও পেয়েছে নতুন কলেজ। তবে এখনও সাঁওতালি ভাষার শিক্ষক পাওয়া যায়নি। কলেজের অধ্যক্ষ শেখ আবু তাহের কামরুদ্দিন বলেন, “আশা করছি দ্রুত সাঁওতালি শিক্ষক পাব।’’ অন্য কলেজের বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এনে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান অধ্যক্ষ।
কেশিয়াড়ি ব্লকে এত দিন কোনও ডিগ্রি কলেজ ছিল না। ব্লকের পড়ুয়াদের ১৫ কিলোমিটার দূরে বেলদা কলেজ, ৩০ কিলোমিটার দূরে হিজলি কলেজে পড়তে যেতে হত। এ বার সমস্যা মিটবে। এ দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহকুমাশাসক ছাড়াও ছিলেন, বিডিও অসীমকুমার নিয়োগী, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জগদীশ দাস, জেলা তৃণমূল নেতা বিষ্ণুপদ দে প্রমুখ। মহকুমাশাসক বলেন, “কেশিয়াড়ি শহরের বাইরে কলেজ হওয়ায় এলাকার দ্রত উন্নয়ন হবে। এলাকার পড়াশোনার পরিবেশও উন্নত হবে।’’