Advertisement
E-Paper

জোগান কম, তাই জোড়া একশো

ঝাড়গ্রামের জুবিলি বাজারে এক জোড়া ফুলকপির দাম একশো টাকা! হলদিয়া টাউনশিপের মাখনবাবুর বাজারেও ভাল ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা। সব্জি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এখন স্থানীয় ফুলকপির জোগান খুবই কম। মূলত বেঙ্গালুরু ও রাঁচি থেকে ফুলকপি আমদানি করা হচ্ছে। তাই চালানি ফুলকপির দাম বেশি। রাঁচির তুলনায় বেঙ্গালুরুর ফুলকপি আকারে অনেকটাই বড়।

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৪৪

ঝাড়গ্রামের জুবিলি বাজারে এক জোড়া ফুলকপির দাম একশো টাকা! হলদিয়া টাউনশিপের মাখনবাবুর বাজারেও ভাল ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা। সব্জি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এখন স্থানীয় ফুলকপির জোগান খুবই কম। মূলত বেঙ্গালুরু ও রাঁচি থেকে ফুলকপি আমদানি করা হচ্ছে। তাই চালানি ফুলকপির দাম বেশি। রাঁচির তুলনায় বেঙ্গালুরুর ফুলকপি আকারে অনেকটাই বড়। রাঁচির ফুলকপি এক একটি গড়ে চারশো থেকে পাঁচশো গ্রাম ওজনের। সেখানে বেঙ্গালুরুর এক একটি ফুলকপির ওজন ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। সেই কারণে জেলার বাজারে এখন ৫০ টাকা প্রতি পিস দরে বেঙ্গালুরুর ফুলকপির দেখা মিলছে বেশি। রাঁচির ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। তবে ৩০-৩৫ টাকায় স্থানীয় ছোট ফুলকপিও মিলছে। সেগুলির ওজন মেরে কেটে দু’শো-তিনশো গ্রামের আশেপাশে। বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়িতে বেশ কিছু স্থানীয় কপি উঠেছে। তবে ক্রেতাদের বক্তব্য, চালানি কপির দাম বেশি হলেও ওজনে বেশি। তাই ভিন্ রাজ্যের কপির চাহিদা তুঙ্গে। দামও তাই বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফুল কপিতে উচ্চ মাত্রায় আয়রন-সহ নানা খনিজ উপাদান রয়েছে। ডাঁটা ও সবুজ পাতায় রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। ফুলকপিতে ভিটামিন ‘বি’ ‘সি’ এবং ‘কে’ পাওয়া যায়।

হলদিয়া টাউনশিপের মাখনবাবুর বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী সর্বানন্দ পাত্র, খড়্গপুরের গোলবাজারের পাইকারি সব্জি ব্যবসায়ী সুরেশ সোনকর ও ইন্দা বাজারের খুচরো ব্যবসায়ী শঙ্কর সাঁতরা বলছেন, “ফুলকপি শীতের সব্জি। শীতের পর থেকে ফুলকপির জোগান কমে যায়। তখন ভিন রাজ্যের কপি আসে। এবার স্থানীয় কপি না ওঠায় চালানি কপির দাম বেড়েছে। বড় চালানি ফুলকপি প্রতি পিসের পাইকারি দাম ৪২ টাকা। তাই খুচরো প্রতি পিস ৫০ টাকার কমে বিক্রি করা যাচ্ছে না। খড়্গপুর বুলবলচটির প্রবীণা স্বপ্না মাইতি বলেন, “শীতের ফুলকপির যেমন স্বাদ হয়, বেশি দামেও সেই স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।”

Advertisement

লালগড়ের নেতাই গ্রামে কংসাবতী নদীর চরে প্রচুর ফুলকপি চাষ হয়। সব্জি ব্যবসায়ী শান্তনু ঘোড়ই বলেন, “বর্ষার শেষের দিকে ফুলকপির বীজ বোনা হয়। ভাদ্র থেকে থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত জমিতে চারা রোপণ করা যায়। ফুল ফুটতে এখনও মাস খানেক দেরি আছে। সেই জন্যই বাজারে চালানি কপির রমরমা।” সব্জি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, অন্য বছর এই সময়ে স্থানীয় ফুলকপি ওঠে। এ বছর দফায় দফায় ভারী বর্ষণের জেরে বীজ বুনতে দেরি হয়ে গিয়েছে। এই জন্য উচ্চ ফলনশীল স্থানীয় ফুলকপি এখনও সে ভাবে ওঠেনি। তাই চালানি ফুলকপি আসছে।

বর্ধমান জেলায় দামোদর নদের চর লাগোয়া উর্বর জমিতেও প্রচুর উচ্চ ফলনশীল ফুলকপি চাষ হয়। ইতিমধ্যেই সেই সব কপি স্থানীয় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এই সব ফুলকপির গড় ওজন একশো থেকে দেড়শো গ্রামের মধ্যে। দুর্গাপুরের বাজারে স্থানীয় ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে। মাঝারি মাপের ফুলকপির দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা। দুর্গাপুর স্টেশন বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী প্রদীপ দাস জানান, এখনও বেশি পরিমাণ ফুলকপি না এলেও জোগান মোটামুটি রয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy