Advertisement
E-Paper

জনস্রোতে ভেসেই মনোনয়ন দিলেন দেব

রাস্তার দু’ধারে শুধু মানুষের ভিড়। দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে উৎসাহী জনতাকে। রথের সময় জনবহুল রাস্তার এমন ছবি দেখতে অভ্যস্ত মেদিনীপুর শহর। ভোটের আগে সেই একই ছবির পুনরাবৃত্তি ঘটল সোমবার। মনোনয়ন জমা দিতে মেদিনীপুরে আসা ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেবকে দেখতে ভিড় উপচে পড়ল মেদিনীপুরের রাস্তায়। দড়ি দিয়ে বেঁধে দিতে হল দেবের যাত্রাপথ।

সুমন ঘোষ ও বরুণ দে

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৪ ০১:২৬
মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেব। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল।

মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেব। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল।

রাস্তার দু’ধারে শুধু মানুষের ভিড়। দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে উৎসাহী জনতাকে। রথের সময় জনবহুল রাস্তার এমন ছবি দেখতে অভ্যস্ত মেদিনীপুর শহর। ভোটের আগে সেই একই ছবির পুনরাবৃত্তি ঘটল সোমবার। মনোনয়ন জমা দিতে মেদিনীপুরে আসা ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেবকে দেখতে ভিড় উপচে পড়ল মেদিনীপুরের রাস্তায়। দড়ি দিয়ে বেঁধে দিতে হল দেবের যাত্রাপথ।

ঠিক ছিল আগামী ২৩ এপ্রিল মনোননয়ন জমা দেবেন দেব। দিন কয়েক আগে সেই সূচি পরিবর্তিত হয়। দিন ঠিক হয় সোমবার। তবে মনোনয়নপত্র পেশের আগে দেব রোড-শো করবেন কি না তা নিয়ে দলের মধ্যে কিছুটা দ্বন্দ্ব ছিল। রোড-শোয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই বেঁকে বসেন বেশ কয়েকজন নেতা। একজন বলে ফেলেন, “মেদিনীপুর শহরে দেবের রোড-শো? তাহলে শুধু রোড-শোই হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে না!” অপর পক্ষের দাবি, “দেব মনোনয়ন জমা দেবেন, রোড-শো হবে না, হয় না কি? হোক না একটু ভিড়। শহরের মানুষও তো নায়ককে চাক্ষুস করতে পারবে।” পরে ঠিক হয় এ দিন রোড-শো করেই দেব মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাবেন।

সোমবার সকাল দশটা নাগাদ বিদ্যাসাগর হলের মাঠে চলে আসে ফুল বেলুনে সাজানো পিক-আপ ভ্যান। আসে ঢাক-ব্যাণ্ড। সাড়ে দশটা থেকেই কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা শুরু হয়। ততক্ষণে মাঠে চলে এসেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি দীনেন রায়, জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোৎ ঘোষ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্ররা। কিছুক্ষণের মধ্যে আসেন আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত, জেলা পুলিশ সুপার শিসরাম ঝাঁঝোরিয়া। বেলা এগারোটা নাগাদ মেদিনীপুরে পৌঁছন দেব। আসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ মুকুল রায়ও। সওয়া বারোটা নাগাদ বিদ্যাসাগর হলের মাঠ থেকে শুরু হয় দেবের রোড শো। সেখান থেকে বটতলাচক, গোলকুঁয়াচক হয়ে কলেজ মোড়। সেখান থেকে পোস্ট অফিস রোড, জেলা পরিষদ রোড, এলআইসি মোড় হয়ে কালেক্টরেট মোড়। ততক্ষণে রোদ উপেক্ষা করে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন রাস্তার ধারে। ভিড়ের চাপে মাঝে মাঝেই থমকেছে রোড-শো। কখনও দেব হাত জোড় করে নমস্কার করেছেন। কখনও ফ্যানদের আবদার মেটাতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রোড-শো যখন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল পেরোচ্ছে, তখন ষষ্ঠ শ্রেণির তিনটে সেকশনের ক্লাস পণ্ড। বই ছেড়ে ছাত্ররা সব জানলার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রদের পাশে শিক্ষকও।

মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হলের মাঠ থেকে কালেক্টরেট মোড়ের দূরত্ব মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার। সোমবার দুপুরে এই রাস্তা পেরোতেই সময় লেগে গেল পাক্কা এক ঘন্টা। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১টা ৪০ মিনিট। কালেক্টরেটের সভাকক্ষে ঢুকলেন দেব। সেখানে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন নিচ্ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার সুশান্ত চক্রবর্তী। তাই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এই তারকা প্রার্থীকে। সেই অবসরে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে এলেন কয়েকজন আধিকারিক। সে দলে রিটার্নিং অফিসার তো বটেই, হাজির ছিলেন জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বৈভব শ্রীবাস্তব-সহ অনেকে। নিজের চেম্বারেই বসে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক আর অর্জুন। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর তাঁরও মন উসখুস করছিল তারকা প্রার্থীকে দেখার জন্য। জেলাশাসক গুলাম আলি আনসারির কাছে গিয়ে অনুমতি নিলেন। জেলাশাসক অবশ্য বারণ করেননি।

মনোনয়ন জমা দিয়ে দেব বেরোলেন ২ টো ৫৬ মিনিটে। ভেতরে অবশ্য মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে টুকিটাকি ছাড়া অন্য কোনও কথা বলেননি তিনি। প্রশাসনিক কর্তারাও মনের প্রবল ইচ্ছের রাশ টেনে রেখেছিলেন। এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, “ক্যামেরা রয়েছে! কিছু বললে যদি বিধি ভঙ্গ হয়।” সকাল ১০টা থেকেই কালেক্টরেট চত্বরেও ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। দেবকে দেখার আশায় কালেক্টরের কর্মীর পরিবারের সদস্যরাও হাজির হয়েছিলেন। দেব আসার আগে থেকেই তাঁরা অফিসে ঢুকে বসেছিলেন। এক পলক কাছে দেখেও যাঁদের মন ভরেনি, তাঁরা আরও কিছুক্ষণ তারিয়ে তারিয়ে দেখছেন মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ছবি।

কে বলছে কাঠফাটা রোদে নাকি পুড়ে যাচ্ছে শরীর? দেব হাওয়ায় রোদ্দুরে প্রখর তাপও উধাও! নাহলে প্রখর রোদের তাপ উপেক্ষা করে এত মানুষ ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকবেন কেন? কাঁধে ব্যাগ নিয়ে কলেজের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া এক ছাত্রীর কথায়, “ওহ্, দেবকে যে কী ভীষণ ভাল লাগে বলে বোঝাতে পারব না। হাতের কাছে পেয়েও একবার দেখব না। একদিন নাই বা ক্লাস করলাম।” মিশন বালিকা বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শ্রমণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “টিভিতে দেখেছি। তাই বাবার সঙ্গে দেখতে এলাম।” আর মনোনয়নেও এই ভিড় দেখে নিজের জয় সম্বন্ধে প্রশ্নের উত্তরে দেব বলেন, “মানুষের আশীর্বাদ রয়েছে।

উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ রয়েছে। আমি এটাই চাই।”

lok sabha election suman ghosh barun dey dev nomination
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy