হামলার প্রতিবাদে বাইক মিছিল ঘিরে ফের গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূল। শনিবার সন্ধ্যায় কেশিয়াড়ি বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। গত ২০ জানুয়ারি কেশিয়াড়ির কুসুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। তৃণমূলের তফসিলি উপজাতি সেলের সভাপতি শ্যাম সরেন জখম হন। প্রতিবাদে এ দিন কেশিয়াড়ি থেকে কুসুমপুর তৃণমূল ব্লক কমিটি বাইক মিছিল করে। বিডিও অফিসের কাছে মিছিলের শেষে থাকা কয়েকটি বাইক আটকে দেয় তৃণমূলেরই খেত মজদুর সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা। এরপরে কুসুমপুর থেকে বাইক মিছিলটি ঘুরে এলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। জখম দু’জনকে কেশিয়াড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ব্লক সভাপতি জগদীশ দাসের সঙ্গে জেলা নেতা বিষ্ণুপদ দে-র বিরোধের জেরে কেশিয়াড়ি ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল দীর্ঘদিনের। বারবার সংঘর্ষও বেধেছে। সম্প্রতি দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ওই দু’জনে দূরত্ব কমেছে। তবে দাপট বেড়েছে মহকুমা কিষান খেতমজুর সংগঠনের সভাপতি ফটিক পাহাড়ির। এখন জগদীশ অনুগামীদের সঙ্গে ফটিক অনুগামীদের কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে। গত ২০ জানুয়ারি কুসুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বৈঠক চলাকালীন ওই দুই গোষ্ঠীরই সংঘর্ষ বাধে। ভাঙচুর হয় স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়। তার প্রতিবাদে এ দিন বাইক মিছিলের ডাক দেন তৃণমূল ব্লক সভাপতি জগদীশবাবু।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কেশিয়াড়ি মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিল ব্লক অফিসের কাছে গেলে শেষে থাকা কয়েকটি বাইক আটকে দেওয়া হয়। কাছেই ফটিকবাবু পরিচালিত তৃণমূলের কিষান খেতমজদুর কার্যালয়। সেই সময় জগদীশ অনুগামী তৃণমূল সমর্থক সন্দীপ বেজ ও রাধাকৃষ্ণ সোমকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কুসুমপুরে বাইক মিছিল শেষ করে কেশিয়াড়িতে ফিরে আসে জগদীশ অনুগামীরা। আটকে থাকা সমর্থকদের উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে দু’পক্ষের। খেত মজদুর সংগঠনের কার্যালয়ে পাল্টা হামলার অভিযোগ তোলেন ফটিকবাবু। তাঁর কথায়, “আমাদের কার্যালয়ে মহিলাদের বৈঠক ছিল। সেই সময়ে ব্লক সভাপতি জগদীশ দাসের নেতৃত্বে মিছিল করে এসে কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।’’
জগদীশবাবুর অবশ্য দাবি, “বাইক মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে যাচ্ছিল। কিন্তু ফটিক পাহাড়ির নেতৃত্বে তির-ধনুক নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের অনেক বাইক আটকে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করতে এলে আমাদের দু’জনকে মারধর করা হয়।” বিবদমান দুই নেতারই বক্তব্য, নেতাদের জানিয়েও সুফল হচ্ছে না। তৃণমূলের জেলা সভাপতি দীনেন রায় বলেন, “গত চারদিন ধরে সিপিএমের পদযাত্রার সময়ে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে ব্যস্ত ছিলাম। কেশিয়াড়ির বিষয়টি এ বার নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখব।”