Advertisement
E-Paper

তিনটি অবৈধ হোটেল ভাঙা হল তাজপুরে

অবশেষে ভেঙে ফেলা হল তাজপুর সৈকতের চারটি অবৈধ হোটেলের মধ্যে তিনটি হোটেল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙার আগেই বুধবার ওই তিনটি হোটেল মালিক নিজেরাই তাঁদের হোটেল ভেঙে ফেলেন। ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন বিডিও তমোজিৎ চক্রবর্তী, রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই সার, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ খালেক কাজী, দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের নিবার্হী আধিকারিক সুজন দত্ত ও তাজপুর সি কোস্ট হোটেলিয়ার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামল দাস প্রমুখ। এছাড়াও রামনগর থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০১৪ ০০:৫৪
ঘটনাস্থলে রামনগর-১-এর বিডিও এবং পঞ্চায়েত সভাপতি। ছবি: সোহম গুহ।

ঘটনাস্থলে রামনগর-১-এর বিডিও এবং পঞ্চায়েত সভাপতি। ছবি: সোহম গুহ।

অবশেষে ভেঙে ফেলা হল তাজপুর সৈকতের চারটি অবৈধ হোটেলের মধ্যে তিনটি হোটেল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙার আগেই বুধবার ওই তিনটি হোটেল মালিক নিজেরাই তাঁদের হোটেল ভেঙে ফেলেন। ঘটনাস্থলে হাজির ছিলেন বিডিও তমোজিৎ চক্রবর্তী, রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই সার, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ খালেক কাজী, দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের নিবার্হী আধিকারিক সুজন দত্ত ও তাজপুর সি কোস্ট হোটেলিয়ার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামল দাস প্রমুখ। এছাড়াও রামনগর থানার পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

সৈকত পযর্টনকেন্দ্র তাজপুরে অবৈধভাবে নিমির্ত চারটি হোটেল হল ‘পাম রিসর্ট ভিলেজ’, ‘নেচারভিউ’, ‘সানরাইজ’ ও ‘লা-বেলা’। দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ ও রামনগর-১ ব্লক প্রশাসন দিন কয়েক আগেই ঘোষণা করেছিল সমুদ্র সৈকতের অবৈধ নির্মাণ আগামী ১৫ জুন ভেঙে ফেলা হবে। দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পষর্দের চেয়ারম্যান ও কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী গত ৩১ মে ঘোষণা করেছিলেন, এই চারটি লজই প্রশাসনের কোনরকম অনুমতি না নিয়ে সমুদ্র সৈকতের ধারে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ও বেআইনিভাবে নিমির্ত চারটি হোটেল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের কথা নোটিশের মাধ্যমে হোটেল মালিকদের জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল।

বুধবার তাজপুরের ‘লা-বেলা’, ‘সানরাইজ’ ও ‘নেচার ভিউ’-এই তিন হোটেল মালিক বুধবার সকালে নিজেরাই হোটেল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে উন্নয়ন পর্ষদ ও রামনগর-১ ব্লক প্রশাসনকে জানান। বুধবারই লোক লাগিয়ে হোটেল ভাঙার কাজও শুরু হয়ে যায়। তাজপুরে ‘লা-বেলার’ মালিক কমলেশ মাইতি, ‘নেচার ভিউ’-এর মালিক সত্যব্রত দাস ও সানরাইজ’-এর মালিক প্রসেনজিৎ হুঁই বুধবার রামনগর-১ বিডিও তমোজিৎ চক্রবর্তীর কাছে এক লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানান, হোটেল নির্মাণের যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তা তাঁরা জানতেন না। ফলে না জেনেই হোটেলগুলি তাঁরা নির্মাণ করেছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ জুন ওই হোটেল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তার আগেই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তাঁরা হোটেল নিজেরাই ভেঙে দিচ্ছেন। তবে ‘পাম রিসর্ট ভিলেজ’-এর মালিক প্রণবেশ সরকার দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ ও ব্লক প্রশাসনের হোটেল ভাঙার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্ট ও কাঁথির মহকুমা শাসকের আদালতের দারস্থ হন। মামলা বিচারাধীন থাকায় মালিক বুধবার তাঁর হোটেল ভাঙা থিকে বিরত ছিলেন বলে রামনগর-১ বিডিও তমোজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন।

Advertisement

তাজপুরের মনোরম সৈকত, নিরিবিলি পরিবেশ পযর্টকদের কাছে খুবই আকর্ষনীয়। কিন্তু ‘কোস্টা রেগুলেটিং জোন’-এর আওতায় পড়ায় তাজপুরের তটভূমিতে কোনও ধরনের নির্মাণ করা বেআইনি। ২০১২ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাজপুরে এসে তাজপুরের সমুদ্রকোলে সব নির্মাণ কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গিয়েছিলেন। গত বছর শারদ উৎসবের সময়ে পুলিশ প্রশাসনে নাকের ডগায় চার-চারটি হোটেল অবৈধভাবে তৈরি হতে থাকে। গত ২১ অক্টোবর এ নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় বেআইনি নির্মাণের সংবাদ প্রকাশের পরই নড়ে বসে প্রশাসন। দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পষর্দের নিবার্হী আধিকারিক সুজন দত্ত হোটেল মালিকদের নিজেদের উদ্যোগে হোটেল ভাঙাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাজপুর হোটেলিয়ার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামল দাসের অবশ্য অভিযোগ, “তাজপুরে চারটি অবৈধ হোটেল ভেঙে ফেললেও এখনও তাজপুর-সহ অন্যান্য সৈকতেও অবৈধ ভাবে একের পর এক হোটেল লজ তৈরি হচ্ছে। অথচ প্রশাসন ও পঞ্চায়েত নির্বিকার।”

bildozing of illegal hotel tejpur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy