সৌরমণ্ডলের ষষ্ঠ এবং দ্বিতীয় বৃহৎ গ্রহ শনি। সূর্যের চারিদিকে পরিভ্রমণ করতে শনির সময় লাগে ১০,৭৫৯ দিন। অর্থাৎ, ২৯ বছরের কিছু বেশি সময়। এই হিসাবে রাশিচক্র, অর্থাৎ মেষ থেকে মীন রাশি পর্যন্ত ঘুরতে সময় লাগে ২৯ বছরের কিছু বেশি সময়। আনুমানিক ৩০ বছর। শনি এক এক রাশিতে সময় নেয় কমবেশি আড়াই বছর।
শনি আতঙ্কের নাম। শনির নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হন। আতঙ্কিত হওয়ার বেশ কিছু কারণও আছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি গ্রহকে অশুভ গ্রহ বলে বর্ণনা করা হয়। তবে শনি কেবলমাত্র অশুভ ফলদাতা গ্রহ নয়, শনির শুভ ফল যে কোনও মানুষকে সফলতার চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে। সেই ফল হয় দীর্ঘস্থায়ী। তবে অশুভ শনি রাজাকেও ভিখারি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
শনি কর্ম কারক, শুধু কর্মদাতা নয়। যে কোনও ব্যক্তির কৃতকর্ম অনুযায়ী কর্মফল দান করে শনি। তবে শনি মারক গ্রহ নয়, শনি শিক্ষক। মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং বিবেক জাগরণকারী গ্রহ হল শনি। যোগ, সাধনা, আধিভৌতিক বিষয়ের উপর প্রভাব রয়েছে শনির। শনি বিছিন্নকারী এবং একাকিত্বদায়ী গ্রহ।
লগ্ন বা রাশির সাপেক্ষে ১২টি স্থানের অধিকাংশ স্থানেই শনি অশুভ ফল দান করে। অর্থাৎ, ৩০ বছরের অধিকাংশ সময়েই শনি অশুভ ফলই দান করে। সর্বাধিক প্রভাব প্রাপ্তি হয় শনির দশা, অন্তঃদশা এবং সাড়েসাতি কালে। তবে শনির দশা এবং সাড়েসাতি কেবল অশুভ নয়। অনেক ক্ষেত্রে খুবই শুভ ফলপ্রাপ্তির প্রমাণও পাওয়া যায়। এমনকি এই সময় চূড়ান্ত সফলতা প্রাপ্তির প্রমাণও আছে। তবে অষ্টমে এবং চতুর্থে শনির অবস্থানকালে বিশেষ অশুভ প্রভাব প্রাপ্তি হয়।
আরও পড়ুন:
শনির অশুভ প্রভাব নাশ বা হ্রাসের বিশেষ কিছু উপায়—
শনি শৃঙ্খলের গ্রহ। উচ্ছৃঙ্খলতা শনির অপছন্দ। শনি গ্রহের প্রতিকারের ক্ষেত্রে প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন কেবল দামি রত্ন, কবচ, তাবিজ বা গ্রহমূল ধারণ করলেই হবে না। কর্ম এবং জীবনধারার পরিবর্তন ছাড়া শনি গ্রহের প্রতিকার বৃথা বা নিষ্ফল।
গৃহের বা পরিচিত-অপরিচিত বয়োজ্যষ্ঠ ব্যক্তিদের সেবা বিশেষ সুফল দান করে। শনিবার করে ঘরবাড়ি, শৌচাগার প্রভৃতি পরিষ্কার করলে শনির কৃপা লাভ করা যায়।
শনি মহারাজের পুজো, কূর্ম অবতারের পুজো এবং বজরংবলীর পুজো করলে শনির আশীর্বাদ লাভ হয়। এরই সঙ্গে চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণেও ভাল ফল পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
শনিবার তিল অথবা সর্ষের তেল মেখে স্নান সেরে শনিস্তোত্র পাঠ করুন।
এ ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে, পুজো, মন্ত্র বা স্তোত্রপাঠে এক দিনে বা অল্প সময়ে ফলপ্রাপ্তি সম্ভব না। শুভ এবং দীর্ঘকালীন ফলপ্রাপ্তির জন্য কমপক্ষে ৩০ বা ৪০ দিন বা তারও বেশি নিয়ম মেনে ক্রমাগত মন্ত্রপাঠ বা পুজো করে চলা প্রয়োজন।
শনির রত্ন নীলা। নীলার আপেক্ষিক গুরুত্ব ৪.০৬, কঠিনতা ৯।
আরও পড়ুন:
নীলা মস্তিষ্ক এবং উদরপীড়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাসট্রিক, অভ্যন্তরীণ ঘা বা ক্ষত, স্নায়ুর সমস্যা, পক্ষাঘাত ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী নীলা। নীলা একাগ্রতা বৃদ্ধি করতে পারে।
বৃষ, তুলা, মকর, কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে নীলা খুবই শুভ ফলদায়ী।
নীলার বিকল্প এমিথিস্ত, ফিরোজ়া ইত্যাদি। (নীলার তিন গুণ পরিমাণ ধারণ করা উচিত) নীলার সঙ্গে চুনি, লাল প্রবাল এবং মুক্তো ধারণ করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
কখন নীলা ধারণ করা উচিত?
শনিবার অথবা পুষ্যা, উত্তর ভাদ্রপদ নক্ষত্রের সকালে শোধন করে নীলা ধারণ করা উচিত।
নীলা ধারণের জন্য রুপো ব্যবহার করা উচিত। নীলা মধ্যমায় পরতে হবে।
শনি গ্রহের জন্য শ্বেতবেড়েলা গাছের মূল ধারণে শুভ ফলপ্রাপ্তি হয়।
শমী গাছ এবং শমী পাতার ব্যবহারে শনি গ্রহের সুফল প্রাপ্তি হয়।