একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কাজ না করেও টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত এগরা-১ ব্লকের সাহাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অভিযোগ, পুকুর সংস্কার ও বাস্তু ভরাট করার দুটি প্রকল্পে মোট প্রায় সাড়ে ছ’লক্ষ টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। এগরা ১ ব্লকের বিডিও পার্থ মণ্ডল বলেন, “প্রাথমিকভাবে তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলেছে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনগত পদক্ষেপ করা হবে।”
পঞ্চায়েতের তেলামী সংসদের বাসিন্দা স্থানীয় কংগ্রেস কর্মী হরিহর জানা জানান, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ চলাকালীন প্রকল্পের তথ্য কাজের জায়গায় বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শিত করার কথা। কিন্তু তা না করায় গ্রামবাসী কিছুই জানতে পারেনি। গত ১৪ ডিসেম্বর গ্রাম সংসদের সভায় পঞ্চায়েতের তরফে কাজের হিসাব দেওয়ার পরে তাঁরা বুঝতে পারেন ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পঞ্চায়েতের তরফে দেখানো হয়েছে ঝাড়েশ্বর পণ্ডা ও প্রভাংশু প্রধানের পুকুর সংস্কার করা হয়েছে। যদিও এই দু’জন বলেন, “আমাদের পুকুর সংস্কার হল অথচ আমরা তা দেখতেই পেলাম না। পুকুরে জল রয়েছে। তাহলে কী করে সংস্কার হল। তাই আমরা বিষয়টি তদন্তের জন্য বিডিও, এসডিও ও জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাই।”
তৃণমূলের সাহাড়া অঞ্চল সভাপতি কৈলাস প্রধান বলেন, “দলের ব্লক নেতা প্রভুপদ দাসের স্ত্রী শান্তিলতা দাস পঞ্চায়েত প্রধান। দলের কাছে সতেরো দফা লিখিত অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। দল কোনও ব্যবস্থা নেওয়া দূরের কথা বরং নেতাদের অনেকেই তাঁকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। সামনের ভোটে এর উপযুক্ত জবাব দেবেন মানুষ।” প্রধান বলেন, “তিনজনের পুকুর সংস্কার যে হয়নি এটা সঠিক। ওই কাজ যাঁরা দেখভাল করেছেন তাঁরাই এই দুর্নীতিতে যুক্ত।’’ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা পূর্ণিমা পয়ড়্যা বিরোধী ডিএসপি দলের। তিনি বলেন, “ প্রধান ও তাঁর স্বামীই এই দুর্নীতির মূলে। বিরোধী দল বলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”