প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্কুলের গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানার সেকেন্ডপার্ট জালপাই হাইস্কুলের ঘটনা। এ দিন সকাল থেকে ওই স্কুলের ঘরে তালা দিয়ে বিক্ষোভের জেরে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ শিক্ষা কর্মীরা স্টাফ রুমের ভিতরে ঢুকতে পারেনি। ক্লাস না হওয়ায় পড়ুয়ারা স্কুলে এসেও ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চণ্ডীপুরের শশীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দ্বিতীয়খণ্ড জালপাই হাইস্কুলে ২০০৬ শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নিতাই মণ্ডল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অভিভাবকদের একাংশ তাঁর কাছ থেকে হিসেব চায়। আর তা নিয়েই অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধ বাধে প্রধান শিক্ষকের। নিতাইবাবু জানান, গত ৭ জানুয়ারি স্কুলে যাওয়ার পরেই অভিভাবক কালীরাম দাসের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁকে হুমকি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়। নিতাইবাবুর অভিযোগ, “হিসেব চাওয়ার অজুহাতে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি মোটা অঙ্কের টাকা চেয়ে আমাকে স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় ফের আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে কালীরাম দাস সহ যাঁদের বিরুদ্ধে ওই প্রধানশিক্ষক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁদের অধিকাংশই এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের বিক্ষোভের ঘটনার কথা স্বীকার করে চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি জয়দেব মিদ্যা বলেন, “প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও শৌচাগার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করার পর আর্থিক দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে বলে জানতে পেরেছি।” প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা না নিয়ে দলের সমর্থক অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের থেকে টাকা চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে কেন? জয়দেববাবুর জবাব, “অভিভাবকরা আমাদের দলের সমর্থক নয়,এলাকার বাসিন্দা ও স্কুলের শুভানুধ্যায়ী হিসেবে স্কুলে বিক্ষোভ দেখান।
চণ্ডীপুরের ওই স্কুলে বিক্ষোভের ঘটনার বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অসীমা অধিকারী বলেন, “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলে বিক্ষোভের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ওই ঘটনার বিষয়ে আগামীকাল বুধবার ওই স্কুলে তদন্তে যাওয়া হবে।”