একবার টাকা এসে ফিরে গিয়েছিল। অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতায় টাকা থাকা সত্ত্বেও তৈরি করা যায়নি জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। জেলা পরিকল্পনা ভবনের একটি ঘর ভাড়া নিয়েই অস্থায়ীভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে নানা ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে থাকে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে জমি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেও শুরু করে। তারপরই প্রশাসন ফের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির জন্য তোড়জোড় শুরু করে। অবশেষে সেই কাজ শুরু হয়। বর্তমানে অবশ্য কাজ প্রায় শেষের পথে। চলতি বছরের শেষ দিকেই ওই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করা যাবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক শম্পা হাজরা বলেন, “প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এই আবাসিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চলতি বছরের শেষের দিকেই চালু করা যাবে। এ বার জেলায় স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হওয়ায় সব দিক দিয়েই সুবিধে পাওয়া যাবে।”
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি তৈরি করা হচ্ছে রাঙামাটিতে, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি তৈরির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের এপ্রিলে। চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। এই কেন্দ্রটি তৈরি হলে প্রাথমিক ভাবে ৪৮ জনকে এক সঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। তাঁদের থাকারও ব্যবস্থা থাকবে কেন্দ্রে। তবে এখনই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীদের জন্য আবাসন তৈরি হচ্ছে না। পরে অর্থ পাওয়া গেলে তা-ও তৈরি করে দেওয়া হবে।
কেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা জরুরি? পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর যাঁরা নতুন সদস্য হন, পঞ্চায়েত প্রধান হন, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বা কর্মাধ্যক্ষ হন, স্থায়ী সমিতি বা উপ-সমিতির সদস্য হন তাঁদের মধ্যে অনেকেই নতুন। যাঁদের কাজের কোনও অভিজ্ঞতাই থাকে না। বর্তমানে পঞ্চায়েতের গুরুত্ব অপরিসীম। বহু প্রকল্প পঞ্চায়েতের মাধ্যমে রূপায়িত হয়। অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কী ভাবে সেই কাজ করবেন, তা বোঝাতেই প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। প্রথমবার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সব ক্ষেত্রে সঠিক কাজ করতে পারছেন কিনা দেখা হয়। না হলে ফের একটি ‘রিফ্রেশার কোর্স’ করানো হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ২৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ২৯টি পঞ্চায়েত সমিতি। স্বাভাবিকভাবেই কয়েক হাজার পঞ্চায়েত সদস্য। সকলকে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাই নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যে অতি জরুরি তা অনেক আগেই বুঝেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। শুধু পঞ্চায়েত কেন আরও নানা বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মী ও আধিকারিকদেরও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন থাকে। বিভিন্ন সময়ে সেই প্রশিক্ষণ হয়। মূলত, কাজে গতি আনতেই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। যে কারণে বছর সাতেক আগেই এর জন্য অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছিল। রাজ্যের অন্যান্য জেলায় সেই টাকায় কেন্দ্র তৈরি হলেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন তা করতে পারেনি। তবে সেই সময় রাঙামাটি এলাকায় এই প্রকল্পের জন্য জমি নিয়ে রেখেছিল। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না হওয়ায় ওই টাকা ফিরে যায়। এ বার সেই কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, একই জায়গায় থাকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হওয়ায় প্রশাসনেরও যেমন সুবিধে হবে তেমনই সুবিধে হবে যাঁরা প্রশিক্ষণ নিতে আসবেন তাঁদেরও। তাছাড়াও নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকলে অন্যদের উপর নির্ভরশীলও হতে হয় না। কেন্দ্র ভাড়া নেওয়া কেন্দ্র হলে নানা জটিলতা থাকে। সেখানে একাধিক অফিসও রয়েছে। রয়েছে সভাকক্ষও। একই দিনে একাধিক কর্মসূচি থাকলে বিভিন্ন রকম সমস্যাতেও পড়তে হয়। নতুন কেন্দ্রটি চালু হয়ে গেলে আর কোনও জটিলতাই থাকবে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও যে ভাবে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে তাতে তার আগেই কেন্দ্রটি চালু হয়ে যেতে পারে। তারপরই ওখানে শুরু হয়ে যাবে প্রশিক্ষণ।