Advertisement
E-Paper

বাড়ছে ফলের দাম, ফাঁকাই পড়ে দোকান

বিজয়া দশমীর পর মন খারাপের রেশটা হঠাত্‌ করে ভাল হয়ে যায় লক্ষ্মীপুজোয়। সম্পদের দেবী-আরাধনার মাত্র একটা দিনেই ফের উত্‌সবের মেজাজে ফেরে বাঙালি। এবার পঞ্জিকা মতে কাল, সোমবার একেবারে মাসের শেষে লক্ষ্মীপুজো।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ০১:২০
দেখা নেই খদ্দেরের। ঝাড়গ্রামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

দেখা নেই খদ্দেরের। ঝাড়গ্রামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

বিজয়া দশমীর পর মন খারাপের রেশটা হঠাত্‌ করে ভাল হয়ে যায় লক্ষ্মীপুজোয়। সম্পদের দেবী-আরাধনার মাত্র একটা দিনেই ফের উত্‌সবের মেজাজে ফেরে বাঙালি। এবার পঞ্জিকা মতে কাল, সোমবার একেবারে মাসের শেষে লক্ষ্মীপুজো। শারদোত্‌সবের মরসুমে দুই মেদিনীপুর জেলার ফলের বাজারে গড়পড়তা দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একই রয়েছে। তবে সম্পদের দেবী-আরাধনার প্রাক মুহূর্তে ফলের বাজারের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই।

অথচ পুজোর একদিন আগে শনিবারও কেনাকাটা সেভাবে কিন্তু জমে ওঠেনি। ফল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, প্রথমত মাসের শেষে লক্ষ্মীপুজো। তাই বাহুল্য বর্জন করে হিসেব কষে শেষ বেলায় দেখেশুনে বাজার করতে চান অধিকাংশ মানুষজন। আবার গ্রামাঞ্চলে এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে আমন ধানের ফলন ব্যাপক হারে মার খেয়েছে। যে কারণে ফলের বাজারে ভিড় নেই। মহরমের শোভাযাত্রার ভিড়ের জন্য অনেকেই এদিন বাজার মুখো হননি। এসবের কারণেই শনিবার ফল দোকানগুলিতে তেমন কেনাবেচা হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

শনিবার দুই জেলার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গিয়েছে, ফলের দোকানগুলিতে ভিড় নেই। দুই জেলার বিভিন্ন বাজারের মান অনুযায়ী বাজার দরে বেশ কিছুটা হেরফের নজরে এসেছে। যেমন মেদিনীপুর শহরে পানিফল প্রতি কেজি ৫০ টাকা। খড়্গপুরে ৩০ টাকা কেজি। আবার হলদিয়া টাউনশিপের বাজারে পানিফল বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। লক্ষ্মীপুজোর নৈবেদ্যয় অন্যান্য অপহিরার্য ফলমূল ও উপকরণ গুলির দাম সব বাজারেই গড়পড়তা এক রকম। আখ প্রতি পিস ১০-২০ টাকা, নারকেলের দাম ছোট-বড় আকার অনুযায়ী প্রতি পিস ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, খেজুর প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা। খুব ভাল মানের খেজুর অবশ্য ১৪০ টাকা কেজি। কদমা ৬০-৮০ টাকা কেজি, আখের গুড় ৩০-৫০ টাকা প্রতি কেজি। এ ছাড়া চাপাকলা প্রতি ডজন ৩০ টাকা, কাঁঠালি কলা প্রতি ডজন ৪০-৫০ টাকা, আপেল কেজি প্রতি ৬০-১২০ টাকা, নাসপাতি ৭০-৮০ টাকা, কমলা, মোসাম্বি, বাতাবি লেবু প্রতি পিস দশ ১০-১৫ টাকা। শশা ১৫-২০ টাকা কেজি, শিষ সমেত ডাব বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়।

Advertisement

গোলবাজারের ফল ব্যবসায়ী মনোজ সোনকর বলেন, “এদিন পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রবিবার ও সোমবার ফলের দাম বাড়তে পারে। চাহিদার তুলনায় আমদানির তারতম্যের ফলে দামটা বাড়ে। তবে শনিবার বাজার লক্ষ্মীপুজোর বাজার মোটেই জমেনি।” লালগড়ের এসআইচকের ফল ব্যবসায়ী শৈলেন পাল, শিলদার ফল ব্যবসায়ী উত্‌পল দত্ত দের কথায়, “এ বার আমন ধানের ফলন ভাল হয়নি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অনেক এলাকায় মাঠের ধান শুকিয়ে গিয়েছে। চাষির ঘরে আনন্দ নেই। আমাদের ফলের বাজার জমবে কী করে!” হলদিয়া টাউনশিপের মাখনবাবুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী সুধাকর চৌধুরী বলেন, “সাধারণত, লক্ষ্মীপুজোর আগের দিনই বিক্রিবাটা বেশি হয়। তবে ক্রেতাদের একাংশ দু’-তিন আগে আগাম বাজার করে রাখেন। এবার আগাম কেনাকাটার ধূমটা নেই।” খড়্গপুরের মালঞ্চ এলাকার বধূ পাপিয়া সেন বলেন, “মাসের শেষে লক্ষ্মীপুজোর বাজারহাট বুঝেশুনে করতে হচ্ছে। রবিবার শেষ বেলাতেই বাজার করব।”

(তথ্য: কিংশুক গুপ্ত, সুমন ঘোষ, সামসুদ্দিন বিশ্বাস ও দেবমাল্য বাগচী)

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy