Advertisement
E-Paper

বন্ধ টয়ট্রেন, দু’বছরেই বেহাল শিশু উদ্যান

দু’বছরও পেরোয়নি। সাজিয়ে গুছিয়ে উদ্বোধন করা শিশু উদ্যানে এখন শুধুই আবর্জনার স্তূপ। রঙিন ফাইবারের তৈরি ঘোড়া দুম়়ড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। দোলনার অবস্থা আরও সঙ্গীন। গত ছ’মাসে একবারও ঘোরেনি টয় ট্রেনের চাকা। তবে প্রতিদিন একটা একটা করে উধাও হয়ে যাচ্ছে রেল লাইনের পাশের রেলিং।

আনন্দ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৮
বুদ্ধ পার্কে বন্ধ টয়ট্রেন (বাঁ দিকে)। ফোয়ারা আর নেই। পার্কের বদ্ধ জলাশয়ে এখন মশার চাষ (ডান দিকে)। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

বুদ্ধ পার্কে বন্ধ টয়ট্রেন (বাঁ দিকে)। ফোয়ারা আর নেই। পার্কের বদ্ধ জলাশয়ে এখন মশার চাষ (ডান দিকে)। ছবি: পার্থপ্রতিম দাস।

দু’বছরও পেরোয়নি। সাজিয়ে গুছিয়ে উদ্বোধন করা শিশু উদ্যানে এখন শুধুই আবর্জনার স্তূপ। রঙিন ফাইবারের তৈরি ঘোড়া দুম়়ড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। দোলনার অবস্থা আরও সঙ্গীন। গত ছ’মাসে একবারও ঘোরেনি টয় ট্রেনের চাকা। তবে প্রতিদিন একটা একটা করে উধাও হয়ে যাচ্ছে রেল লাইনের পাশের রেলিং।

তমলুক শহরের একপাশে রূপনারায়ণের পাড়ে পুরসভা তৈরি করেছিল এই শিশু উদ্যান। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উদ্বোধনও হয়েছিল ঘটা করে। তবে এক দেড় বছরের মধ্যেই সেই পার্কের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথম প্রথম বিকেলের দিকে শিশুদের নিয়ে পার্কে আসতেন শহরের বাসিন্দারা। এখন আর কেউ আসেনও না। তাঁদের অভিযোগ পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দশা।

তমলুক শহরের স্টিমারঘাট এলাকায় রূপনারায়ণের তীরে বুদ্ধ পার্কের পাশেই রয়েছে শিশু উদ্যান। সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে পুরসভার তরফে গড়ে তোলা এই শিশু উদ্যানের উদ্বোধন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। বসার জায়গা, দোলনা, ঘোরানো সিঁড়ি, নানান গাছগাছারি দিয়ে সাজানো ছিল পার্ক। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল বিদ্যুৎ চালিত টয় ট্রেন, পাখি প্রদর্শনী ঘর। পাশের একটি পুকুরে বোটিং করার ব্যবস্থাও করা হয়। নিয়ম মতো টয় ট্রেন ও নৌকা বিহারের জন্য মাথা পিছু ১০ টাকা করে নেওয়া হয়।

এখন ওই উদ্যানে গেলে দেখা যায়, আগাছায় ভরা একখণ্ড জমি। দু’টি দোলনার মধ্যে একটির শিকল ছিঁড়ে গিয়েছে। তারের গোছা দিয়ে কোনও রকমে আটকানো রয়েছে। ভাঙাচোরা দোলনা মেরামত করার কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। একইভাবে ভেঙেচুরে রয়েছে অন্য খেলার উপাদানও। ফাইবারের সিঁড়ি, ঘোড়ার সবই ভেঙে গিয়েছে।

শিশু উদ্যানের এক পাশে বাঁধানো জলাশয়ের মধ্যে ছিল বুদ্ধ মূর্তি। প্রতি সন্ধ্যায় রঙিন আলোয় সাজিয়ে তোলার ব্যবস্থা ছিল। সে আলো এখন আর জ্বলে না। আর পাখি প্রদর্শনীর ঘরে রয়ে গিয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি বদ্রি পাখি। এমনকী গাছপালাগুলিতে অযত্নের ছাপ স্পষ্ট। উদ্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মী জানান, গত প্রায় ছ’মাস ধরেই বন্ধ রয়েছে টয় ট্রেন। তবে এ বছর মকরসংক্রান্তিতে টয়ট্রেন ফের চালু করা হয়েছে। সে জন্য জানুয়ারির শুরু থেকেই চলেছে সাফাই। মকর সংক্রান্তি এবং তার পরে বেশ কয়েকদিন ধরেই শিশুরা ভিড় জমিয়েছিল ট্রেনের আশায়। কিন্তু বাবা মায়েরা প্রশ্ন তুলেছেন ক’দিন এমন থাকবে? দেখাশোনার অভাবে এখানে আশ্রয় পাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ফলে তাঁরা একেবারেই চান না শিশুদের এখানে নিয়ে আসতে।

শহরের লালদিঘি এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী অন্তিমা সাহুর ক্ষোভ, ‘‘শহরে একটাও ভাল পার্ক নেই। বছর দু’য়েক স্টিমারঘাটের কাছে শিশু উদ্যান চালু হওয়ায় প্রায় নিয়মিত ওখানে নিয়ে যেতাম ছেলেমেয়েকে। এখন তাও বন্ধ।’’ পায়রাটুঙ্গি এলাকার বাসিন্দা সান্ত্বনা মাইতি বলেন, ‘‘প্রথম প্রথম তো খুবই ভাল ছিল। বাচ্চাগুলো একটু খেলতে পারত। এখন বিকেলে ছেলেকে নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে বেরই।’’

তমলুকের পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন অবশ্য অযত্নের কথা মানতে নারাজ। বরং তিনি দোষ চাপিয়েছে বর্ষার ঘাড়ে। তাঁর দাবি, ‘‘এ বছরের ভারী বর্ষায় শিশু উদ্যানের কিছু গাছপালা নষ্ট হয়েছে। তবে অন্যান্য সামগ্রী ঠিক আছে।’’ রবীন্দ্রনাথবাবু জানিয়েছেন, ওই শিশু উদ্যান সাজানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে একটি সংগঠনকে। ওই সংস্থা পুষ্প প্রদর্শনী ও
বৃক্ষরোপণের কাজ করবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy