সালিশির পর গ্রামে বয়কটের শিকার হচ্ছে এক পরিবার, এমন অভিযোগ জমা পড়েছে রামনগর ১ বিডিও-র কাছে। মঙ্গলবার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন হলদিয়া ২ পঞ্চাইয়েতের অর্জুনি গ্রামের বিভূতি মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, বাবার সৎকার করতেও বাধা এসেছে।
এ বিষয়ে রামনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আনন্দ চৌধুরী-সহ দশজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। বিডিও ঊর্মি দে সরকার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রামনগর থানায় চিঠিটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। রামনগর থানা অবশ্য জানিয়েছে, বিভূতি মণ্ডলের পরিবারের বিরুদ্ধে গোটা গ্রামেই ক্ষোভ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সামাজিক বয়কটের কোনও ঘটনা নজরে আসেনি।
যদিও বিভূতিবাবু তা মানতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “শাসক দল আর নেতার ভয়ে সকলেই বয়কটের ঘটনা অস্বীকার করছেন। বাস্তবে আমরা গ্রামে বয়কটের শিকার হয়েই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছি।”
অভিযোগপত্রে বিভূতিবাবু জানিয়েছিলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁর বাবা সুধীর মণ্ডল মারা গেলে তার দেহ সৎকার করা নিয়ে গ্রামবাসীদের সহযোগিতা পাননি। দিঘায় গিয়ে দাহ করা হয়। শুক্রবার পারলৌকিক কাজের ম্যারাপ বাঁধার কাজ শুরু হলে পরে ডেকরেটর কাজ করতে চাননি। এমনকী কাজে আসবেন না বলে জানিয়েছেন পুরোহিতও। অভিযোগ গ্রাম কমিটির পক্ষ থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ দিকে ডেকরেটর খোকন মাইতি জানান, “বিভূতিবাবুর বাড়ি থেকেই বলা হয়েছিল বৃহস্পতিবারের পরে ম্যারাপ বাঁধার কাজ শুরু হবে। সেই অনুযায়ী কাপড়, বাঁশ সব ওখানেই পড়ে রয়েছে। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু বলা হয়নি।’’ গ্রামের ব্যবসায়ী নিলাম্বর মণ্ডলের কথায়, ‘‘গ্রামে ছোট ব্যবসা করি। প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা বাকি রেখেছেন বিভূতিবাবু। এর পরেও কিছু কিনতে এলে, জিনিস দিই কী করে? এটাকে কি বয়কট বলে?’’