Advertisement
E-Paper

মূর্তির উচ্চতায় টেক্কা দেওয়ার পালা

‘গণপতি বাপ্পা’র পুজো ঘিরে উন্মাদনার চেনা ছবি দেখা গেল ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুরে। বৃহস্পতিবার রেলশহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিনশো গণেশ পুজোর আয়োজন করা হয়েছি। বিশালাকার মূর্তি থেকে থিমের মণ্ডপ, আয়োজনে খামতি ছিল না। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতোই মিশ্র ভাষাভাষীর শহর খড়্গপুরে গণেশ পুজোর রেওয়াজ রয়েছে। রেলের কারখানাকে কেন্দ্র করেই এখানে নানা ভাষাভাষী মানুষের বসবাস শুরু হয়েছিল।

দেবমাল্য বাগচী

শেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:২৫
৫৬ ফুটের সিদ্ধিদাতা খড়্গপুরের নিউ সেটলমেন্ট এলাকায়। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

৫৬ ফুটের সিদ্ধিদাতা খড়্গপুরের নিউ সেটলমেন্ট এলাকায়। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।

‘গণপতি বাপ্পা’র পুজো ঘিরে উন্মাদনার চেনা ছবি দেখা গেল ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুরে। বৃহস্পতিবার রেলশহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিনশো গণেশ পুজোর আয়োজন করা হয়েছি। বিশালাকার মূর্তি থেকে থিমের মণ্ডপ, আয়োজনে খামতি ছিল না।
মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতোই মিশ্র ভাষাভাষীর শহর খড়্গপুরে গণেশ পুজোর রেওয়াজ রয়েছে। রেলের কারখানাকে কেন্দ্র করেই এখানে নানা ভাষাভাষী মানুষের বসবাস শুরু হয়েছিল। পুজোর আচারেও কোথাও দক্ষিণী কোথাও বা মহারাষ্ট্রের রীতি ছাপ ফেলছে। লাফিয়ে বাড়ছে গণেশ পুজোর সংখ্যাও। প্রতিযোগিতায় নামছে ক্লাবগুলি। বাড়ছে জৌলুস।
শহরের মালঞ্চ, নিউ সেটেলমেন্ট, ধানসিংহ ময়দান, মথুরাকাটি ও গোলবাজার এলাকায় গণেশ পুজোর সংখ্যা সর্বাধিক। বাহারি আলোকসজ্জা ও থিমের কারুকাজে চোখ ধাঁধাচ্ছে শহরবাসীর। খরিদা বয়েজ ক্লাবের গণেশ মূর্তিতে ‘বাহুবলী’র ছোঁয়া। গণেশকে এখানে দক্ষিণ ভারতের নায়ক প্রভাসের আদলে গড়া হয়েছে। মূর্তির কাঁধে বিশালাকার শিবলিঙ্গ। পুজোর আচারে মহারাষ্ট্রের রীতির ছাপ। ফুলের সাজে ঘেরা গণেশ রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। ২০০২ সাল থেকে চালু হওয়া এই পুজোর বাজেট তুলনায় কম, ৪০ হাজার টাকা। পুজো কমিটির সম্পাদক আদিত্য ভর্মা বলেন, “কম বাজেটে কী ভাবে আকর্ষণীয় পুজো করা যায়, সেটাই ভাবনায় ছিল। তাই জনপ্রিয় সিনেমার এই দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলেছি।”
নজর কেড়েছে নিউ সেটলমেন্টের বালা সেবা সঙ্ঘের ৫৬ ফুটের সিদ্ধিদাতা। সঙ্গে ৫৬ কিলোগ্রামের লাড্ডু। ২৬ সেপ্টেম্বর লাড্ডুটি নিলামে উঠবে। এই পুজোর বাজেট ১২ লক্ষ টাকা। মণ্ডপে চাকচিক্য তেমন নেই। তবে মণ্ডপ চত্বরের পরিবেশ দৃষ্টিনন্দন। এখানে পুজো দক্ষিণী ঘরানার। এ দিন পুজোর উদ্বোধন করেন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার। ছিলেন স্থানীয় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পূজা নায়ডু, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস চৌধুরী। পুজো কমিটির সভাপতি ডিডি রাও বলেন, “সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, উচ্চতার নিরিখে দেশের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ার ৬৩ ফুটের গণেশ, হায়দরাবাদের ৫৯ ফুটের গণেশের পরেই আমাদের গণেশের স্থান।”
এ বার ২০ বছরে পড়ল ছত্তীসপাড়ার বিবেকানন্দ সোশ্যাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের গণেশ পুজো। মন্দিরের আদলে কাঠ-কাপড়ের সাবেক মণ্ডপ। ১০ ফুটের মূর্তিতে ময়ূরের আদল। ১১টি মাটির ময়ূর ও ময়ূরের পেখম দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গণেশমূর্তি। পুজোর বাজেট প্রায় এক লক্ষ টাকা। ক্লাব কর্তা তারকেশ্বর রাও জানান, ১১ দিন ধরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ধানসিংহ ময়দানের রেড স্টার ক্লাবের পুজোতেও ময়ূরের আদলে গণেশ মূর্তি গড়েছেন মেদিনীপুরের মৃৎশিল্পী ভাস্কর পাল। ৬০ হাজার টাকা বাজেটেই ক্যারাটে প্রতিযোগিতা ও দন্ত চিকিৎসা শিবিরে আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাবকর্তা সিএইচ জগদিশ্বর রাও। ছত্তীসপাড়ার বেঙ্গল বয়েজ ক্লাবের পুজোর এ বার ২৩তম বর্ষ। প্রায় ২৫ফুটের মণ্ডপটি হয়েছে মন্দিরের আদলে। সাড়ে ১১ ফুটের গণেশ মূর্তি ক্রিস্টাল পাথরে মুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও দুঃস্থ পড়ুয়াদের পুস্তক বিতরণ, মহিলাদের শাড়ি বিলি করবেন কর্মকর্তারা। কমিটির সম্পাদক শ্রীনিবাস রাও বলেন, “এই পুজো আমরা এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতে করি। কিন্তু কোনও চাঁদা তুলি না।” নিমপুরার গোল্ডেনচকে বিশালাকার গণেশমূর্তি, নিউ সেটেলমেন্টের ওয়াইটুকে পুজো হয়েছে চোখধাঁধানো।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy