গত বুধবার ঘাটালে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণেই ঘাটালের খুকুরদহের বাসিন্দা শশী বেরা (৩৫) নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের দুই বন্ধু ওই এলাকারই বাসিন্দা চণ্ডী সামন্ত ও তপন মাইতিকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জেরা করে পুলিশের অনুমান, তাঁদের সঙ্গে কোনও মাদক পাচার চক্রের যোগ থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার অষ্টমীর দিন সকালে দুই বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শশী। ওই দিন দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে সাহাপুর সংলগ্ন আড়খানা গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠে স্থানীয় বাসিন্দারা শশীকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রাই তাঁকে খুকুরদহ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় দাসপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতেই হাসপাতালে শশীর মৃত্যু হয়। যদিও পুলিশের কাছে ওই যুবক মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দিয়ে জানান, দুই বন্ধু চণ্ডী ও তপন তাঁর মদের সঙ্গে হেরোইন জাতীয় কোনও মাদক দ্রব্য মিশিয়ে দিয়েছেন। পরে শশীর স্ত্রী উমা বেরাও পুলিশে চণ্ডী ও তপনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের দু’জনকে গ্রেফতার করে। মৃতের ময়না-তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। শশীর ভিসেরা সংগ্রহ করেও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
ধৃতদের জেরা করে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, শশী-সহ তিনজনের সঙ্গেই ড্রাগ পাচার চক্রের যোগ থাকতে পারে। ধৃতদের থেকে এই পাচার চক্রের আরও কয়েকজনের নাম জেনেছে পুলিশ। টাকাপয়সার ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে কোনও গোলমালের জেরেই ওই দুই যুবক শশীর মদে হেরোইন মিশিয়ে দেয়। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই শশীকে খুনের চেষ্টা করে চণ্ডী ও তপন। সেই কারণেই অষ্টমীর দিন শশীকে তাঁরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। শশী মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতেও চণ্ডী ও তপনের নামেই মদে হেরোইন মিশিয়ে দেওয়ার কথা বলে। মৃতের স্ত্রী উমাদেবীও একই মর্মে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়। চণ্ডী ও তপনকে ঘাটাল আদালতে তোলা হলে ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ হয়।