ইন্টারনেটে লিঙ্ক নেই। তার জেরে দু’দিন কাজ বন্ধ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে। অফিসের আট জন কর্মীর মধ্যে পাঁচ জনই অনুপস্থিত ছিলেন না। ফলে রেজিস্ট্রি করতে এসে কাজ না করেই ফিরতে হচ্ছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার সকালে সুহাতাটা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তালা দিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেয়ে সুতাহাটার বিডিও সরকারি আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠান। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশও। ঘণ্টাখানেক পরে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে তালা খোলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইন্টারনেটের লিঙ্ক না থাকায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অফিসে জমির দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। অফিসের আট জন কর্মীর মধ্যে পাঁচ জন অনুপস্থিত থাকায় অফিস ফাঁকাই ছিল। সাব-রেজিস্ট্রার চন্দনকুমার মাইতি এ দিন দেরিতে অফিসে আসেন বলে অভিযোগ। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে তালা লাগিয়ে দেয় স্থানীয়রা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল থেকে সুতাহাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অন-লাইন রেজিস্ট্রি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার লিঙ্ক না থাকায় ব্যাহত হয় জমি রেজিস্ট্রির কাজ। সুতাহাটার বিডিও শুভেন্দু রায় জানান, লিঙ্ক না থাকায় কাজ হচ্ছে না ঠিকই। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আট জন কর্মীর মধ্যে পাঁচ জন কর্মী সময়মতো আসেননি। এমনকি সাব রেজিস্ট্রারও দেরি করে এসেছেন। কর্মীদের দেরিতে আসার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা অফিসে তালা দেয়। খবর পাওয়ার পর এক আধিকারিককে ঘটনাস্থলে পাঠাই। পুরো বিষয়টি মহকুমাশাসককেও জানিয়েছি।
সুতাহাটার সাব-রেজিস্ট্রার চন্দনকুমার মাইতি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে লিংক না থাকায় অফিসের সব রকম কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে অফিসের বাইরে নোটিসও দিয়েছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি মোবাইল সংস্থাকে সমস্যা সমাধানের জন্য বার বার জানিয়েছে। সমস্যার সমাধান হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।
অফিসের অধিকাংশ কর্মীর অনুপস্থিতির কারণ কী কেন?
সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘‘অফিসের পাঁচ জন কর্মী এ দিন আমাকে জানিয়ে এক সহ-কর্মীর বাড়ির অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ওরা পরে অফিসে ফিরেও এসেছেন। লোকজন এসে ক্ষোভ দেখানোয় তাঁদের পাঁচ জনকে অনুপস্থিত দেখিয়েছি। লিঙ্ক না থাকায় ওরা অফিসে থাকলেও কাজ হত না।’’
প্রশ্ন উঠছে, চন্দনবাবুর বিরুদ্ধেও অফিসে দেরি করে আসার অভিযোগ উঠেছে?
উত্তরে চন্দনবাবু বলেন, ‘‘খোঁজ নিয়ে দেখুন প্রতিদিন আমি সময়মতো অফিসে আসি। এ দিন ব্যাক্তিগত কারণে আমার আসতে দেরি হয়েছে।’’ এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ দলিল লেখক সমিতির সুতাহাটা ইউনিটের সম্পাদক রিপনকুমার গাড়ু বলেন, ‘‘লিঙ্ক না থাকায় দু’দিন ধরে অফিসে কাজ হচ্ছে না। সাব-রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য কর্মীরা এ দিন দেরিতে অফিসে এসেছেন এই অভিযোগ তুলে লোকজন তালা দিয়েছিল। আমরা চাই, শীঘ্রই কাজ চালু হোক। তবে তালা দেওয়ার সঙ্গে দলিল লেখকদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’
লিঙ্ক না থাকায় তমলুকের জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও গত বৃহপ্সতিবার থেকে দলিল রেজিস্ট্রেশনের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের জমি কেনাবেচা ও হস্তান্তরের দলিল রেজিস্ট্রেশনের কাজ করতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সমস্যার কথা স্বীকার করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মলয়কান্তি দাস বলেন, ‘‘ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সমস্যার জেরে বৃহস্পতিবার থেকে সুতাহাটা ও তমলুকে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের কাজ করা যায়নি। এরফলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। এই সমস্যার বিষয়ে দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’’