Advertisement
E-Paper

শিক্ষা কেন্দ্রে কাজে যেতে বাধা, নালিশ

প্রায় দেড় বছর ধরে কাজে যোগ দিতে পারছেন না মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের এক সম্প্রসারক। ঘটনাটি শালবনির কাশীজোড়া এলাকার। পঞ্চায়েত সমিতির সিদ্ধান্ত মতো গত শুক্রবার কাজে যোগ দিতে গেলেও তাঁকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দেখে ফের বিডিওর কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৪ ০০:০১

প্রায় দেড় বছর ধরে কাজে যোগ দিতে পারছেন না মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের এক সম্প্রসারক। ঘটনাটি শালবনির কাশীজোড়া এলাকার। পঞ্চায়েত সমিতির সিদ্ধান্ত মতো গত শুক্রবার কাজে যোগ দিতে গেলেও তাঁকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দেখে ফের বিডিওর কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

কাশীজোড়া মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের ওই সম্প্রসারক কাঞ্চনকুমার চৌবের কথায়, “আমার কী অপরাধ বুঝতে পারছি না। দেড় বছর ধরে কাজে যোগ দিতে পারছি না। গত শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে হাজিরা খাতায় সই করি। পরে স্থানীয় কয়েকজন দলবেঁধে আসে। দু’জন আমাকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলে। প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।” কাঞ্চনবাবুর অভিযোগ, “দলবেঁধে যারা আমাকে শিক্ষা কেন্দ্রে থাকতে বাধা দেয়, তারা সকলেই তৃণমূল নেতা-কর্মী।”

কেন কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কাঞ্চনবাবুকে?

স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার একাংশ তৃণমূল নেতা- কর্মীর দাবি, কাঞ্চনবাবুর নিয়োগটাই অবৈধ! খোদ তৃণমূলের কাশীজোড়া অঞ্চল সভাপতি সঞ্জয় খামরই বলেন, “ওকে অবৈধ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে! আমাদের কাছে সব রকম তথ্যপ্রমাণ আছে!” প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে নিয়ম মেনেই নিয়োগ হয়েছে।

সমস্যার কথা মানছেন শালবনির বিডিও জয়ন্ত বিশ্বাসও। তিনি বলেন, “ওই সম্প্রসারকের অভিযোগপত্র পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই করা হবে।” শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, “কাশীজোড়ায় একটা সমস্যা রয়েছে। সমস্যার সমাধানের সব রকম চেষ্টা চলছে।”

গত বছর এপ্রিল থেকে কাজে যোগ দিতে পারছেন না কাঞ্চনবাবু। এই সময়ের মধ্যেও তিনি পুলিশ- প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে সুরাহা হয়নি। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা স্থায়ী সমিতির বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সঞ্জয় খামরইও। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ওই সম্প্রসারক যাতে পুনরায় শিক্ষা কেন্দ্রে যোগদান করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সান্মানিক বকেয়াও মিটিয়ে দেওয়া হবে। পঞ্চায়েত সমিতির এই সিদ্ধান্ত মতোই গত কাজে যোগ দিতে যান কাঞ্চনবাবু। কিন্তু পারেননি।

তাঁর কথায়, “যারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যেতে বলে, তাদের আমি স্থায়ী সমিতির সিদ্ধান্তের কথা বলি। ওরা তখন বলে, ‘কে স্থায়ী সমিতি?’। আমরা কাউকে মানি না।” পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, কাঞ্চনবাবুর নিয়োগ যে অবৈধ, বৈঠকে উপস্থিত থেকেও তার স্বপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি সঞ্জয়বাবু। অবশ্য এ দিন তিনি দাবি করেন, “আমার কাছে যা যা তথ্যপ্রমাণ ছিল, সব জানিয়েছি। স্থায়ী সমিতির সিদ্ধান্তে ইচ্ছাকৃত ভাবেই তার উল্লেখ রাখা হয়নি!” ব্লক প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, “কাশীজোড়ার সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আর দু’-তিনদিন দেখব। সমস্যার সমাধান না হলে এ বার কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”

medinipur shalbani panchayat kashijora madhyamik siksha kendra
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy