বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের তিন জনের। বৃহস্পতিবার সকালে খেজুরি থানার কেশবচক গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের নাম চিত্তরঞ্জন জানা (৫৪), তাঁর স্ত্রী উমাদেবী (৪৫) ও বড় ছেলে ইন্দ্রজিৎ জানা (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হলুদবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবচক গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জনবাবু পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁদের দুই ছেলে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাড়িতে একটি টুলু পাম্প চালিয়ে বিদ্যুতের কাজ করছিলেন চিত্তরঞ্জনবাবু। অভিযোগ, চলন্ত মেশিন থেকে একটি বিদ্যুতের তার বাড়ির পাশে পুকুরের ধারে পুঁততে গিয়ে তার পুকুরের জলে পড়ে যায়। সেই সময় তার চিত্তরঞ্জনবাবুর হাতেই ছিল। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুকুরে পড়ে যান তিনি। বাবাকে পুকুরে পড়ে যেতে দেখে ছুটে আসে ইন্দ্রজিৎ। বাবাকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। স্বামী ও ছেলের এই অবস্থা দেখে হন্তদন্ত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন উমাদেবী। পুকুরের জলে ঝাঁপ দেন তিনি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁদের তিন জনেরই মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনাটি মিনিট সাতেকের মধ্যেই ঘটে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গোপাল প্রধান জানান, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামবাসীরা ছুটে এসে মেশিন বন্ধ করে দেয়। পরে পুকুর থেকে তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুকুরের মধ্যেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয় বলে খেজুরি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মানিকলতা প্রধানও জানিয়েছেন। মানিকলতাদেবী জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি চিত্তরঞ্জনবাবু ছাড়াও তাঁর স্ত্রী ও বড় ছেলেরও মৃত্যু হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ করার পর চিত্তরঞ্জনবাবুর বড় ছেলে ইন্দ্রজিৎ বাবার সঙ্গেই রাজমিস্ত্রির কাজ করত। ছোট ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। খেজুরি থানার পুলিশ তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ কেশবচক।