Advertisement
E-Paper

ডেপুটি স্পিকারের সময়ের শৃঙ্খলায় নারাজ অনেকে

বিধায়ক গরহাজির দেখে স্পিকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সময়ের মধ্যে হাজির হতে হবে বিধায়কদের। তবে ছাড় থাকবে এক ঘণ্টার।  না হলে আর হাজিরা খাতায় সই করার অনুমতি দেওয়া হবে না। আর সই না হলে ভাতাও পাবেন না কমিটির সদস্যরা।

দেবারতি সিংহ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:২০

প্রয়োজনে দায়িত্ব ছাড়তে রাজি, তবু বিধানসভায় কমিটির বৈঠকে সময়মতো আসার ‘শৃঙ্খলা’ মানতে আপত্তি অনেক বিধায়কের। উল্লেখ্য, বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে বিধায়কদের প্রাপ্য হয় মাসে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা। এটা তাঁদের বেতনের অতিরিক্ত।

বিধায়করা সময়মতো বৈঠকে আসছেন না, এই অভিযোগ পেয়ে দিন কয়েক আগে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই কমিটিগুলির বৈঠকে ঢুঁ মেরেছিলেন। কমিটির বৈঠকে অনেক বিধায়ক গরহাজির দেখে স্পিকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সময়ের মধ্যে হাজির হতে হবে বিধায়কদের। তবে ছাড় থাকবে এক ঘণ্টার। না হলে আর হাজিরা খাতায় সই করার অনুমতি দেওয়া হবে না। আর সই না হলে ভাতাও পাবেন না কমিটির সদস্যরা।

এক ঘণ্টা ছাড়ের এমন ছাড়পত্র অন্য কোনও চাকরি বা কাজের ক্ষেত্রে থাকে কি না, সে প্রশ্ন অনেকেরই। বস্তুত, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হায়দর আজিজ সফি সেই এক ঘণ্টার ছাড়ও দিতে রাজি নন। তাঁর অধীনে থাকা বিধানসভার প্রিভিলেজ এবং লাইব্রেরি কমিটির বৈঠক শুরুর নির্ধারিত সময়েই হাজির হতে হয় বিধায়কদের। বৈঠক শেষের পরে আর হাজিরা খাতায় সই করার অনুমতি দেন না প্রাক্তন ওই আইপিএস অফিসার। বৈঠকে সময়ের মধ্যে আসার এই ‘বাধ্যবাধকতা’য় ওই দুই কমিটির বেশ কয়েক জন সদস্য ওই কমিটিতে থাকতে আপত্তি তুলছেন বলে বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের খবর। প্রিভিলেজ ও লাইব্রেরি কমিটির বদলে অন্য কমিটিতে তাঁরা থাকতে চেয়ে সচিবালয়ে দরবার করছেন।

সফির কড়া নিয়ম একবাক্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন এই দুই কমিটির সদস্যরা। সময়ে না আসতে পারা বিধায়কদের সই করতে না দিলে সফির সঙ্গে যে মাঝেমধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, তাও জানিয়েছেন অনেক সদস্যই। তবে কমিটি বদল করার ইচ্ছের কথা কেউই প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চাননি। যদিও প্রিভিলেজ কমিটির এক সদস্য সফির কড়া ‘শৃঙ্খলা’য় আপত্তি তুলেই বলেন, ‘‘সকাল ১১টায় বৈঠক ডাকেন কখনও কখনও। অত সকালে বৈঠক হলে বাকিদের যে অসুবিধা হয়, সফি সাহেব বুঝতে চান না। বৈঠক শুরুর দু’ঘণ্টা পর পর্যন্ত সই করতে দেওয়া তো বিধানসভার নিয়মেই রয়েছে। তা হলে কেন এত কড়াকড়ি!’’

কড়া নিয়মে অনেক বিধায়ক যে অসন্তুষ্ট, তা স্বীকার করেই লাইব্রেরি কমিটির বিধায়ক আশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমি এই কমিটিতে নতুন। বৈঠক চলাকালীন না এলে সফি সাহেব সই করতে দেন না, তাতে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করছেন বলে শুনেছি।’’ যদিও সফি নিজে বলেন, ‘‘সময়ের মধ্যে না এলে কাউকে সই করতে দেব না। তবে আমার কমিটিগুলির কেউ আমার কাছে কোনও অভিযোগ করেননি।’’

যদিও সময়ের মধ্যে বৈঠকে না পৌঁছলে বৈঠকের যথার্থতা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রিভিলেজ কমিটিরই সদস্য নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি তো বৈঠক শুরুর দশ মিনিট আগে পৌঁছই। বৈঠকে থাকব না, অথচ ভাতা নেব, সে আবার কী! বৈঠকে না থাকলে বৈঠকে নিজের মতামত দেব কী ভাবে!’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy