গত বছর ডিসেম্বর মাসের এক সন্ধে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম রাজ্য দফতরের উঠোনে দাঁড়ানো একটি কালো স্করপিও। সামনে স্টিকার, সাদার উপর লাল দিয়ে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‘এমএলএ’।
রাজ্য বিধানসভায় যখন সিপিএম শূন্য, তখন দলের দফতরে এমলএ-এর গাড়ি? বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন রফা করার প্রাথমিক পর্বের আলোচনায় সেই সন্ধেবেলা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে গিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। অনেক দিন পর কোনও বিধায়কের গাড়ি প্রবেশ করেছিল সিপিএম দফতরের মূল ফটকের ভিতর। কিন্তু নওশাদের সেই গাড়ি দেখে এক প্রবীণ সিপিএম নেতা বলেছিলেন, ‘‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হচ্ছে!’’
পাঁচ মাসের মধ্যেই স্বাদ বদল। অবশেষে ঘোলের বদলে দুধের স্বাদ পেল সিপিএম রাজ্য দফতর। ২০২৬ সালের ভোটে শূন্যের গেরো কাটিয়েছেন ডোমকলের মুস্তাফিজুর রহমান (রানা)। সিপিএমের একমাত্র বিধায়ক তিনিই। বুধবার কাকভোরে ডোমকল থেকে রওনা হয়ে প্রথমে পৌঁছোন বিধানসভায়। বিধায়ক হিসাবে শপথগ্রহণ করে বেলা ৩টে নাগাদ যান আলিমুদ্দিনে।
আরও পড়ুন:
২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যে শূন্য পেয়েছিল বামেরা। শূন্য ছিল ২০২১ সালের বিধানসভাতেও। কেবল রাজ্যসভায় এ রাজ্য থেকে বামেদের প্রতিনিধি ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। গত এপ্রিলে বিকাশেরও মেয়াদ ফুরোনোর পরে সংসদীয় রাজনীতির তিন স্তরেই পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম শূন্যে পরিণত হয়েছিল। সেই বামেদের ‘শিবরাত্রির সলতে’ হয়ে কেবল জ্বলেছেন রানা।
বুধবার রানার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান, আত্মীয়স্বজনও ছিলেন বিধানসভা এবং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। সিপিএম রাজ্য দফতরে রানার সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ কথা বলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসু। কী ভাবে রানা পরিযায়ী শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজ করেছেন, কেরলে গিয়েছিলেন তাঁদের সংগঠন গড়তে, সে সব নিয়ে কথা বলেন বিমান। আগামী ২১ মে ডোমকলে বিজয় সমাবেশ করবে সিপিএম। সেই কর্মসূচিতে বিমানকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান রানা।