কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কাকে করা হবে, সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। বৃহস্পতিবারই সেই নাম ঘোষণা করে দেওয়া হবে। তার আগে বুধবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাড়িতে রাহুল গান্ধী-সহ দলের শীর্ষ নেতারা প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন। তার পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যটির বিধানসভায় মোট ১৪০টি আসন রয়েছে। গত ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট সেখানে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। জয়রাম বলেন, ‘‘কেরলের বিধায়কদলের অনুমোদনে কংগ্রেস হাইকমান্ড সমস্ত আলোচনা সম্পূর্ণ করেছে। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।’’ দিল্লি থেকেই কি ঘোষণা হবে? না কংগ্রেস নেতৃত্ব কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানাবেন কেরল থেকেই? তা খোলসা করেননি জয়রাম।
আরও পড়ুন:
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছে। ভোটের ফল ঘোষণার আট দিন পরেও মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কংগ্রেস। দলের তরফে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব, রাজ্যে দলের প্রাক্তন প্রধানদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে অন্যতম দাবিদার। তবে উঠে এসেছে আরও দু’টি নাম। কেরলের বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশন এবং দলের বর্ষীয়ান নেতা রমেশ চেন্নিতালারা মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে রয়েছেন। দলের অন্দরেই এই তিন নাম নিয়ে বিবিধ মতামত উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে থেকে কাউকে ওই পদে বসানো হয় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
সূত্রের খবর, কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব বেণুগোপালের নাম ভেবে রেখেছিলেন। তবে বাকি দুই নাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা এবং দাবিদাওয়া উঠে এসেছে। অভিযোগ, দলের অন্দরেই হাইকমান্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমনকি, রাহুলের প্রাক্তন কেন্দ্র ওয়েনাড়ে তাঁকে হুমকি দিয়ে পোস্টারও পড়েছে। ওয়েনাড়ের বর্তমান সাংসদ রাহুলের বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া। সেখানে কোনও পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘‘মিস্টার রাহুল, কেসি আপনার ব্যাগ বয়ে দিতে পারেন। কিন্তু কেরলের মানুষ আপনাকে ক্ষমা করবে না।’’ কোনও পোস্টারে আবার লেখা হয়েছে, ‘‘ওয়েনাড় পরবর্তী অমেঠী হয়ে যেতে পারে।’’ উত্তরপ্রদেশে গান্ধী পরিবারের দুর্জয় ঘাঁটি অমেঠীতে ২০১৯ সালে রাহুলকে হারিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির স্মৃতি ইরানি। এই পোস্টারেও সেই পরিণামের ইঙ্গিত রয়েছে। গত কয়েক দিনের লাগাতার বৈঠকের পর কেরল নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন রাহুলরা, সেটাই দেখার।