সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুলায়ম সিংহ যাদবের পুত্র তথা দলের বর্তমান প্রধান অখিলেশ যাদবের সৎ ভাই প্রতীকের মৃত্যুর কারণ জানাল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। তাতে বলা হয়েছে, ফুসফুসীয় ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার (পালমোনারি থ্রোম্বোএমবলিজ়ম) ফলে ফুসফুস এবং হৃদ্যন্ত্রের কাজ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে ‘কার্ডিওরেসপিরেটরি কোলাপ্স’।
লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার দুপুরে প্রতীকের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। তার পরেই প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে প্রতীকের দেহে ছ’টি স্থানে আঘাত লেগেছিল। কিন্তু কী ভাবে সেই আঘাত এসেছিল, তা প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে হিস্টোপ্যাথোলজিকাল পরীক্ষার জন্য ফর্মালিনে সংরক্ষিত পুরো হৃদযন্ত্র এবং ‘পালমোনারি থ্রম্বোএমবলিক’ উপাদান ও রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষিত ভিসেরা হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রতীক। কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে লখনউয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা মুলায়মের জ্যেষ্ঠপুত্র অখিলেশ। প্রতীকের শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে প্রতীকের শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি হয়। লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালের অধিকর্তা জিপি গুপ্ত জানিয়েছেন, ভোর ৫টা নাগাদ তাঁরা প্রতীকের অসুস্থতার খবর পান। তার পরেই চিকিৎসকদের একটা দল মুলায়ম-পুত্রের বাড়িতে যায়। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সঙ্কটজনক থাকায় তড়িঘড়ি প্রতীককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে ৫টা ৫৫ মিনিটে মারা যান প্রতীক। প্রসঙ্গত, অখিলেশ মুলায়মের প্রথম স্ত্রী মালতী দেবীর পুত্র। প্রতীকের মা সাধনা দেবী মুলায়মের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রতীকের স্ত্রী অপর্ণা বছর কয়েক আগে সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।