তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয় মঙ্গলবার নিজের দফতরের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) পদে নিয়োগ করেছিলেন জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেটরিভেলকে। কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়ে বুধবার সেই নিয়োগ বাতিল করলেন তিনি। বুধবার বিধানসভার আস্থাভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের প্রিন্সিপাল সচিব রাধনের নিয়োগ ‘বাতিল’ ঘোষণা করেন।
তামিলনাড়ুতে বিধানসভা ভোটের পরে একটিমাত্র বুথফেরত সমীক্ষায় বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেটরি কাজ়গম’ (টিভিকে)-কে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে অনেককে বিস্মিত করে ওই জ্যোতিষী ভোটগণনার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বিজয়ের দলই জয়ী হতে চলেছে। টিভিকের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর যে কয়েক জন সবচেয়ে আগে বিজয়কে শুভেচ্ছা জানান, রাধন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। জ্যোতিষ হিসাবে রাধনের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে তামিলনাড়ুতে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তাঁর করা ভবিষ্যদ্বাণী অনেক সময়েই মিলে গিয়েছে। তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এডিএমকে নেত্রী জয়ললিতাও রাধনের গণনার উপর ভরসা রাখতেন।
আরও পড়ুন:
ভোটের পর কংগ্রস, দুই বাম দল, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) এবং দলিত সংগঠন ভিসিকে-র সমর্থনে সরকার গড়ার জাদুসংখ্যায় পৌঁছোয় বিজয়ের দল। শপথের দিনক্ষণ স্থির করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল রাধনের। প্রথমে স্থির হয়েছিল রবিবার বিকেল পৌনে ৪টের সময় মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন বিজয়। কিন্তু ওই জ্যোতিষীর পরামর্শে শপথগ্রহণের সময় বদলে দেওয়া হয়। রবিবার সকাল ১০টায় শপথ নেন বিজয়। বিজয়ের দল টিভিকে সূত্রে খবর, রাধন জানিয়েছিলেন যে, সকাল ১০টায় ‘পবিত্র মুহূর্তে’ শপথ নিলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে বিজয়ের। জ্যোতিষীর পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনেছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
কিন্তু এর পরেই গোল বাধে। ‘অনভিজ্ঞ’ রাধনকে ওএসডি এবং ‘মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা’ পদে নিয়োগ ঘিরে ওঠে প্রশ্ন। বিরোধী ডিএমকে এবং এডিএমকে-র পাশাপাশি সহযোগী দলগুলির একাংশও বিজয়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। এর পরেই বুধবার জারি হয় নতুন বিজ্ঞপ্তি। এর পরেই আস্থাভোটে ১৪৪টি ভোট পেয়ে জয়ী হন বিজয়। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি ভোট। টিভিকে ১০৮টিতে জিতে একক বৃহত্তম দল হয়েছে। যদিও বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাদের বিধায়ক সংখ্যা ১০৭। কিন্তু এর ফলে বিধায়ক সংখ্যা ২৩৩-এ নেমে আসায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা কমে ১১৭-য় দাঁড়িয়েছিল। কংগ্রেসের ৫, সিপিএম, সিপিআই এবং ভিসিকের দু’জন করে এবং এক আইইউএমএল বিধায়কের পাশাপাশি দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রায় ২৫ জন এডিএমকে বিধায়ক বুধবার বিজয়ের আনা আস্থাপ্রস্তাব সমর্থন করেছেন।