Advertisement
E-Paper

কমছে আমদানির উৎস, কয়লা-ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনে তাই নজর সরকারের! ৩৭,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ছাড়পত্র

‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ প্রক্রিয়ায় কয়লাকে সরাসরি না পুড়িয়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে বাষ্প এবং সীমিত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে প্রক্রিয়াকরণ করে ‘সিনগ্যাস’ বা ‘সিন্থেসিস গ্যাস’ উৎপাদন করা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ২০:৪০
Government of India approves Rs 37,500 crore incentive to promote coal gasification projects

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কয়লা-ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনে নজর দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এ সংক্রান্ত প্রকল্পকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বুধবার ৩৭,৫০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “এই প্রকল্পের জন্য ৩৭,৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এতে প্রায় ৩,০০০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টন কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলি স্থাপন করা হবে।’’

প্রসঙ্গত, শিল্প-প্রযুক্তির পরিভাষায় কয়লা-ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনকে ‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ বলা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কয়লাকে সরাসরি না পুড়িয়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে বাষ্প এবং সীমিত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে প্রক্রিয়াকরণ করে ‘সিনগ্যাস’ বা ‘সিন্থেসিস গ্যাস’ উৎপাদন করা হয়। এই প্রক্রিয়া মিথানল, সার, হাইড্রোজেন এবং রাসায়নিক উৎপাদনে সহায়তা করে, ফলে আমদানিকৃত তেল (৮৩ শতাংশ), মিথানল (৯০ শতাংশের বেশি) এবং অ্যামোনিয়া (১৩-১৫ শতাংশ)-এর উপর নির্ভরতা কমে।

কয়লাকে গ্যাসীয় জ্বালানিতে রূপান্তরের এই আধুনিক পদ্ধতি চালু করলে দেশের জ্বালানিক্ষেত্রে আমদানি-নির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে তেল ও গ্যাসের আমদানি বাড়ন্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যেই দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের আবেদন জানিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ ছুঁয়ে বৈষ্ণব বুধবার বলেন, ‘‘দেশে ৪০১ মিলিয়ন টন পরিচিত কয়লা মজুত রয়েছে, যা আগামী ২০০ বছরের জন্য যথেষ্ট। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সকলে জানি। তাই আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে আজ কয়লা গ্যাসিফিকেশন নিয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ প্রকল্প চালুর লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন কয়লা গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা অর্জন করা। কয়লা এখনও ভারতে ঘরোয়া জ্বালানি চাহিদা পূরণের মূল ভিত্তি। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদা ৫৫ শতাংশেরও বেশি জোগান দেয় কয়লা। বিশ্বে কয়লার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ও ভোক্তা হিসেবে ভারতের জ্বালানি চাহিদা বাড়তে থাকায় কয়লার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্র। আর মজুত বিপুল কয়লা-ভান্ডারের সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যেই ‘কোল গ্যাসিফিকেশন’ প্রকল্পে ‘নজর’ দেওয়া হচ্ছে।

Government of India Coal Mining coal gas Oil and Natural Gas Natural gas
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy