E-Paper

প্রাক্তনের পথে নবান্ন, জৌলুস ফিরছে রাইটার্সে

এমনিতে শনিবার। তার উপরে রবীন্দ্রজয়ন্তী। ছুটির দিনে নবান্নে তেমন ব্যস্ততা থাকার কথা নয়। কিন্তু যে দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিচ্ছেন, সে দিনেও নবান্নে কোনও ব্যস্ততা নেই!

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৭:৩৩
ফাঁকা নবান্ন। শনিবার।

ফাঁকা নবান্ন। শনিবার। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

‘‘সিএম আসবেন নাকি?’’

শনিবার ভরদুপুরে নবান্নে ঢোকার মুখে সাংবাদিক পরিচয় পেতেই প্রশ্ন করেছিলেন উর্দিপরা এক পুলিশকর্মী। উত্তর দেওয়ার আগেই পাশ থেকে কলকাতা পুলিশের এক স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মী বললেন, ‘‘না, না। এখানে উনি আসবেন না। গেলে রাইটার্সেই যাবেন।’’ নিরাপত্তা পেরিয়ে ভিতরে পৌঁছতেই চারদিক ফাঁকা। রিসেপশনে গা এলিয়ে বসেছিলেন এক কর্মী। পাশে থাকা পুলিশকর্মীরাও যেন কেমন গা-ছাড়া। কে, কোথায় যাচ্ছে— সে সব নিয়ে কোনও মাথা ব্যথা নেই যেন!

এমনিতে শনিবার। তার উপরে রবীন্দ্রজয়ন্তী। ছুটির দিনে নবান্নে তেমন ব্যস্ততা থাকার কথা নয়। কিন্তু যে দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিচ্ছেন, সে দিনেও নবান্নে কোনও ব্যস্ততা নেই! তথ্য সংস্কৃতি দফতরের তরফে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মালাদিয়ে ‘বুড়িছোঁয়া’ উদ্‌যাপন হয়েছে মাত্র। গত তেরো বছরে এমন ছবিভাবা যায়নি!

আসলে রাজ্যে পরিবর্তনের আবহে প্রত্যাবর্তনও যেন ঘটে গিয়েছে। নতুন সরকার ঘোষণা করেছে, রাজ্যের ভরকেন্দ্র ফিরে আসছে লালদিঘির পাড়ে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রাক্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জৌলুস হারাতে শুরু করেছে তাঁর সাধের ‘নবান্ন’। এ দিন একের পর এক অফিসে তালা ঝোলানো ছিল। চোদ্দ তলায় মুখ্যসচিবের দফতরে কিছু কর্মী এসেছিলেন। পনেরো তলায় মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে এ দিন প্রবেশ ‘নিষিদ্ধ’ ছিল। তেরোতলায় অর্থ দফতরে অবশ্য তেমন কেউ ছিলেন না। এ সবের মাঝে দোতলায় পূর্ত দফতরের দু’জন কর্মী বসে গল্প করছিলেন। ছুটির দিনেও নিয়ম মেনে অফিসে আসতে হয় তাঁদের। ওই দু’জনেরই একজন বললেন, ‘‘কে জানে, কবে ও বাড়িতে যেতে বলবে! সাহেবরা এখনও কিছু বলেননি।’’ প্রশাসনিক সদর বদলানো নিয়ে গলায় অনিশ্চয়তার সুর স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালিত ক্যান্টিনের কর্মীদেরও।

‘‘আপনারাও কি রাইটার্সে ক্যান্টিন খুলবেন?’’— দুপুরের খাবার খেতে আসা এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে কাউন্টারে বিলের হিসাব করার ফাঁকে এক কর্মী বললেন, ‘‘জানি না। এখনও কিছু বলেনি।’’ তবে এই সদর দফতর বদল হলে নিত্যদিনের বিক্রিবাটা কমবে, এ কথা বিলক্ষণ জানেন ওই কর্মীরা। ব্যবসার ক্ষতি হবে, মানছেন নবান্নের আশপাশের চা, বিস্কুট, সিগারেট, জলখাবারের দোকানিরাও। গত কয়েক বছরে জনসমাগমের জেরে দিনভর খদ্দেরের ভিড় থাকত ওই দোকানগুলিতে।

২০১৩ সালে রাইটার্স থেকে নবান্নে সরেছিল রাজ্য প্রশাসনের ভরকেন্দ্র। রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে ব্রিটিশ আমলের ‘হেরিটেজ’ ভবন সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত তেরো বছরে সেই কাজ শেষ হয়নি। গত কয়েক বছরে এই বাড়ি খাঁ-খাঁ করত। আইন-সহ কয়েকটি ছোট দফতর থাকলেও তেমন ব্যস্ততা ছিল না। পাহারায় থাকা পুলিশকর্মীদেরও তেমন ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়নি। বাড়ির লাল রঙে শ্যাওলার কালো ছোপও ধরে গিয়েছিল।

তবে নতুন সরকার রাইটার্স থেকে কাজ করবে, এ কথা জানার পরেই পূর্ত দফতর তড়িঘড়ি মূল ব্লকের মেরামতি ও পুনরুজ্জীবন শুরু করে। বাকি অংশে অবশ্য এখনও ভাঙাচোরা দশা। এ দিন সকাল থেকেই মূল ভবনের সামনে কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা। তিনতলায় মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সামনে সাদা কাপড়ে মোড়া চেয়ার পাতা, ভিতরে ঘরে এয়ার কুলার চলছে। সাদা মার্বেলের মেঝে ঝকঝক করছে। লাউডস্পিকারে বাজছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। রাইটার্সের মূল গেটের বাইরে ঝাঁকে ঝাঁকে সংবাদমাধ্যমের মাইক, ক্যামেরার ভিড়। ছুটোছুটি করছেন পুলিশ ও সরকারি দফতরের কর্তারা।

পরিবর্তনের আবহে ঘটছে প্রত্যাবর্তনও!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

writers building West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy