লক্ষ্মীর ভান্ডারের পর যুব সাথী নিয়েও বড়সড় দুর্নীতি সামনে এল। অভিযোগ, কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে এমন একাধিক ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে যাদের একাধিক অ্যাকাউন্টে ওই প্রকল্পের টাকা ঢুকছিল। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এক জনের নামে ২০টিরও বেশি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। সরকার পরিবর্তনের পর উপভোক্তাদের নথি যাচাই করতে গিয়েই বিষয়টি সামনে আসে।
সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নামের তালিকা তৈরির করতে গিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকা যাচাই শুরু হয়। তখনই কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষ উপভোক্তার সন্ধান মেলে। ভোলা শীল নামে ব্লক অফিসেরই এক তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কর্মীর ‘লগ-ইন আইডি’ ব্যবহার করে ওই সব নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের নির্বাচনী ক্ষেত্রের মধ্যে কৃষ্ণনগর ২ ব্লকে এ বার যুব সাথী প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ক্ষেত্রেও সেই ভোলা শীলের নামই সামনে আসছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ব্লকে গৌরাঙ্গ শীলের নামে খোলা ১৮টি অ্যাকাউন্ট, তারাশঙ্কর শীলের নামে ১৯টি, অন্তরা শীলের নামে ২৩টি, আরাধ্যা শীলের নামে ২১টি, নিরঞ্জন প্রামাণিকের নামে ১০টি, প্রমোদ প্রামাণিকের নামে সাতটি ও দ্বৈপার্ণব কর্মকারের নামে ১০টি অ্যাকাউন্টে মাসে মাসে যুব সাথী প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে বলে অভিযোগ। কৃষ্ণনগর ২ ব্লকের কর্মীদের একাংশের দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত এ ক্ষেত্রেও তদন্ত যত এগোবে ততই বেশি নাম উঠে আসবে।
এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ধুবুলিয়ার বাসিন্দা সুশান্ত নাগ। সেই অভিযোগপত্রে তিনি একাধিক নাম ও তাদের কোন কোন অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকছে, তা-ও নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন। সুশান্তের দাবি, “আমার কাছে সমস্ত প্রমাণ আছে।” কৃষ্ণনগর ২ বিডিও রতনকুমার গাইন বলেন, “তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)