জেলার সবচেয়ে বড় ঘন জঙ্গল রয়েছে ডোমকলের জিতপুর এলাকায়। একটা সময় রাজনৈতিক দলের দাপুটে নেতা ও কাঠ-মাফিয়াদের সৌজন্যে কাটা হয়েছে সেই জঙ্গলের দামি দামি গাছ। গত কয়েক দশকে ‘জঙ্গলরাজ’ চলেছে ওই এলাকায়। কোপ পড়েছে জঙ্গলের মাটিতেও। জমি মাফিয়াদের দাপটে সরকারি ওই জমি একটু একটু করে দখল করে তৈরি হয়েছে পাকা বাড়ি, স্কুল, ক্লাব, খেলার মাঠ। তবে এত দিন বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্র হেলদোল ছিল না বন দফতরের। সরকার বদল হতেই এ বার নড়েচড়ে বসল বন বিভাগের আধিকারিকরা। রীতিমতো নোটিস ধরানো হয়েছে একাধিক বাড়ির মালিককে। দফতরের আধিকারিকদের দাবি, “যাঁরা অবৈধ নির্মাণ করেছেন, তাঁদের নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে চালানো হবে বুলডোজ়ার।”
এলাকার বাসিন্দা নাজুফা বিবি বলেন, “২৫ বছর ধরে বন দফতরের জায়গাতে বসবাস করছি। এর আগে কেউ টুঁ শব্দটি করেনি। অনেক কষ্ট করে ভিন্ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে কোনওক্রমে পাকা দেওয়াল গেঁথে মাথার উপরে ছাদ তৈরি করেছি। শ্বশুর-শাশুড়ি-সহ সন্তানদের নিয়ে দশ জন এই বাড়িতেই থাকি। ভেঙে দিলে এখন আমরা কোথায় যাব?”
যদিও ওই এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, বন দফতরের একাংশের আধিকারিক ও এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের মদতেই একের পর এক বাড়ি তৈরি হয়েছে জঙ্গলের জমিতে। জিতপুর নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “জিতপুর নতুন পাড়া, ফকিরাবাদ, বরতনাবাদ, মাঝপাড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩০০ বাড়ি তৈরি হয়েছে জঙ্গলের জমিতে। এতদিন তা নিয়ে কেউ কিছুই বলেনি। বন বিভাগ আগে সতর্ক করলে এমন পরিণতি আমাদের হত না।”
বহরমপুর দক্ষিণ ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার শুভ্র দত্ত বলেন, “জ়িরো টলারেন্স, বন বিভাগের জায়গায় কোনও অবৈধ নির্মাণ থাকবে না। আমরা ইতিমধ্যেই নোটিস ধরিয়েছি বেশ কিছু পরিবারকে। নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)