বিরাট সংখ্যক মহিলা ভোটারের কাছে পৌঁছতে দলের মহিলা কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।
মহিলা কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ঢুকে যাচ্ছেন একেবারে হেঁসেলে। মেয়েদের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন। বাড়ির মহিলারাও লজ্জা ভেঙে সাবলীল ভাবে তাঁদের কাছে অভাব-অভিযোগ জানাচ্ছেন। ভোটের আগে একে বিজেপির অন্যতম বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে অনেকে মনে করছে। কারণ, পুরুষ কর্মীদের কাছে অনেক মহিলাই স্বচ্ছন্দ নন। তাঁরা মন খুলে কথা বলতে পারেন না। ফলে মহিলা কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গেলে নিবিড় জনসংযোগ হওয়ার কথা। মহিলা কর্মীদের দিয়ে মহিলা ভোটারদের বোঝানোও তুলনামূলক ভাবে সহজ। তাই দলের ‘গৃহ সম্পর্ক’ কর্মসূচিতে দলের মহিলা কর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে।
জনসংযোগ বাড়াতে বিজেপির ‘গৃহ সম্পর্ক’ কর্মসূচি চলছে। প্রতিটি বুথের প্রতিটি বাড়িতে বিজেপির কর্মীরা পৌঁছে যাচ্ছেন। তুলে ধরছেন কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য, রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কথা। বিলি করছেন লিফলেট। সেই লিফলেটের পিছনে থাকছে একটা নম্বর। বিজেপির কাজে সন্তুষ্ট হলে সেই নম্বরে মিস কল দিতে অনুরোধ করছেন তাঁরা।
বিজেপি নেতাদের দাবি, মোট ভোটারের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। অথচ, এঁদের কাছে দল সে ভাবে পৌঁছতে পরছিল না। কারণ, এতদিন রুষ কর্মীরাই মূলত বাড়ি-বাড়ি প্রচার করতেন। আর পুরুষ কর্মীদের পক্ষে সরাসরি বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে কথা বলা সে ভাবে সম্ভব হত না। বিজেপির মহিলা মোর্চার কৃষ্ণনগর শহর দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি বৈশাখী দে বলছেন, “আমারা মহিলাদের কাছে গিয়ে গ্যাস থেকে শুরু করে, কেন্দ্রের নানা প্রকল্পের কথা তুলে ধরছি।’’
বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মিডিয়া কনভেনর সন্দীপ মজুমদারের কথায়,“ মহিলা ভোটারদের অনেকে সে ভাবে পরিস্থিতি না-বুঝে পরিবারের পুরুষদের কথামত ভোট দেন। আমরা সেই অবস্থা বদলাতে চাইছি। আমরা চাই মহিলারা পরিস্থিতি জেনে বুঝে নিজেদের ইচ্ছামতো প্রার্থীকে ভোট দিন।”
তবে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র বাণীকুমার রায় বলছেন, “মানুষ বিজেপির উপরে চরম ক্ষিপ্ত। ওরা যেখানেই যাচ্ছে সেখানেই ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই মহিলাদের এগিয়ে দিচ্ছে।”