Advertisement
E-Paper

গ্যাসের আকাল কৃষ্ণনগরে, জাতীয় সড়কের হোটেল চালাতে তৈরি হল উনুন

গ্যাস সংকটের প্রথম দিকে প্রতিদিনের খাবারের তালিকা কাটছাঁট করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। অভিযোগ, দিনের পর দিন সংকট বেড়েছে। দিন দুয়েক আগে থেকেই বন্ধ হতে শুরু করেছে রাস্তার ধারের একের পর এক হোটেল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০০:৪৬

—প্রতীকী চিত্র।

রাত হোক বা দিন খদ্দেরের ভিড়ের চাপে দম ফেলার সময় থাকে না হোটেল কর্মীদের। সারা দিন ক্রেতার ভিড় যত থাকে তা আরও বাড়ে সন্ধ্যা থেকে। রাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ভিড়। ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছুঁলে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার প্রায় প্রত্যেক যাত্রিবাহী বাস চা, সন্ধ্যার টিফিন বা রাতের খাবারের জন্য ভিড় জমায় নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন হোটেলগুলিতে। সেই চেনা ছবি এখন উধাও। গ্যাসের আকালে জাতীয় সড়কের দু’পাশের হোটেলগুলিতে এখন সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবস্থা সামাল দিতে বৃহস্পতিবার একাধিক হোটেল কর্তৃপক্ষ মাটির উনুন তৈরি করে রান্নার ব্যবস্থা করল।

গ্যাস সংকটের প্রথম দিকে প্রতিদিনের খাবারের তালিকা কাটছাঁট করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। অভিযোগ, দিনের পর দিন সংকট বেড়েছে। দিন দুয়েক আগে থেকেই বন্ধ হতে শুরু করেছে রাস্তার ধারের একের পর এক হোটেল। তার আগে বড় হোটেলগুলি ইলেকট্রিক চুল্লি ও অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থায় কোনও রকমে পরিষেবা চালু রেখেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেগুলিতেও তেমন রান্না হয়নি। এক কোণে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে কয়েকটি ফাঁকা সিলিন্ডার। দূরপাল্লার যাত্রীদের অসুবিধা ও ব্যবসায়িক সুনাম বজায় রাখতে অবশেষে বড় হোটেলগুলি অন্য সিদ্ধান্ত নিল। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দেখা গেল অন্য চিত্র। কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি হল মাটির উনুন। ব্যবস্থা হল কাঠের জ্বালানির। বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চললেও হোটেল মালিকেরা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এ ভাবে চালানো সম্ভব হবে না।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের ফলে শুধু জাতীয় সড়ক নয় কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতাল মোড়, খাই খাই গলি, নেদের পাড়া, ধুবুলিয়া, বেথুয়াডহরি-সহ একাধিক এলাকার হোটেলগুলিও একই সমস্যায় জর্জরিত। কোনও হোটেলের ঝাঁপ বন্ধ, কোনওটি টিমটিম করে চলছে। কোথাও ভরসা ইনডাকশন ও কয়লা।

হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় কুইন্টাল প্রতি জ্বালানি কাঠের দাম বেড়েছে ১০০-১৫০ টাকা। ছোট দোকান থেকে উধাও হয়েছে ইনডাকশন কুকার, যা মিলছে তারও আকাশছোঁয়া দাম। কৃষ্ণনগর পালপাড়ার মোড়ের হোটেল ব্যবসায়ী নিত্যানন্দ প্রামাণিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘প্রথমে গ্যাস পেতে দেরি হচ্ছিল। তার পরে শুরু হল কালোবাজারি। দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছিল জ্বালানির গ্যাস। এখন দ্বিগুণ দামেও সেসব পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কাঠের ব্যবস্থা করলাম কিন্তু কাঠের দামও যেভাবে বাড়ছে তাতে কতদিন চালাতে পারব জানি না।’’ সংকটের আঁচ পড়েছে হাসপাতালের ক্যান্টিন ও কৃষ্ণনগর পুরসভায় চলা ‘মা’ ক্যান্টিনেও। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রোগীদের খাবার দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নদিয়ার পলাশীর এক হোটেল মালিক মিনা সাহা জানান, খাবারের তালিকা কমিয়েও এখন আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীরাও। ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার প্রচার বিভাগে কর্মরত বারাসাতের বাসিন্দা সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বেশিরভাগ হোটেলে খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও পছন্দ মতো খাবার থাকছে না। আমাদের কাকভোরে কাজে বেরোতে হয় তাই হোটেলই ভরসা। বন্ধ হয়ে গেলে খাব কী?’’

সিলিন্ডার না মেলায় ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগরের একাধিক বিরিয়ানির দোকানে ‘‘গ্যাসের অভাবে বন্ধ বিরিয়ানি’’ লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। রুজিতে টান পড়েছে হোটেল কর্মীদেরও। এক হোটেল মালিকের কথায়, ‘‘দৈনিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার খাবার বিক্রি হত। কর্মীর বেতন মিটিয়ে ৩০০০ টাকার মতো লাভ থাকত। এখন বিভিন্ন পদ বন্ধ করতে হয়েছে। বিক্রি নেমে দাঁড়িয়েছে ১০-১২ হাজার টাকায়। ফলে হোটেল লোকসানে চলছে। কর্মীদের সবাইকে কিছুটা কম পয়সা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি।’’ সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে নদিয়ার কয়েক হাজার হোটেল ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

Fuel Hotels
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy